‘ইয়াস’ মোকাবিলায় প্রস্তুত চট্টগ্রাম

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এর সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন নানা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতকৃত ৫১১ আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন ৫ জন এডিসি।

উপকূলবর্তী সব উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড, থানার ওসি, পিআইও ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

এছাড়াও করোনায় স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও জরাজীর্ণ আশ্রয় কেন্দ্রগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বিদ্যুৎ সংযোগ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো প্রস্তুত করার জন্য ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় নানা প্রস্ততিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যে কোনো সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি ও আশ্রয় কেন্দ্রে আনয়ন, সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,এনজিওসমূহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাতে পর্যাপ্ত ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী মজুদ আছে। গো-খাদ্য কেনার জন্য প্রতিটি উপজেলায় ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণাসহ মাইকিং করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সোমবার দুপুর ২টায় এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল। আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরের আশপাশের এলাকা রোববার থেকেই ফুঁসছে। বুধবার সন্ধ্যানাগাদ খুলনার সুন্দরবন অংশে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’।

আবহাওয়ার বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে ‘ইয়াস’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত উঠিয়ে তার পরিবর্তে ২ নম্বর দূরবর্তী হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। গভীর সাগরে বিচরণ না করতেও বলা হয়েছে তাদের।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ৫১১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আরও ৮৩টি আশ্রয় কেন্দ্র এখন প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাতে করোনার কারণে গাদাগাদি করে থাকতে না হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে থাকতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রয়েছে।