পথে পথে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়ালেন তিনি

ভারত থেকে করোনোভাইরাসের নেগেটিভ রিপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এর পর ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। এর পর পরীক্ষায় মেলে তিনি করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন।

এর মধ্যে ঘটে যায় অঘটন। করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টধারী সেই যুবক পালিয়ে যান হাসপাতালের কোয়ারেন্টিন থেকে। এর পর বিভিন্ন জেলা ঘুরে সড়ক ও নৌপথে ঢাকা হয়ে চাঁদপুরে যান। এর মধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে। তাদের মধ্যে অনেকে করোনা পজিটিভ হয়েছেন। মিশেছেন বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে। আর পথে পথে ছড়িয়েছেন করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট।

করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে যশোর হাসপাতাল থেকে পালানোর ৬ দিন পর ইউনুছ গাজীকে (২৮) আটক করেছে পুলিশ। চাঁদপুর জেলা শহরের বিপণিবাগ এলাকা থেকে তাকে আটক করে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে সঙ্গে থাকা তার মা, ফুফু ও বোনসহ সবাইকে আইসোলেশনে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ফুফু হাজেরা বেগমের করোনা পজিটিভ হয়েছে।

জানা গেছে, ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে ফেরত ইউনুছ গাজী প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় তার শরীরে ভারতীয় করোনা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়। পরে তাকে যশোরের একটি হাসাপাতালে ভর্তি করা হলেও গত ১৩ মে হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি থাকা অবস্থায় সে পালিয়ে যায়।

পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে সে নিজ বাড়ি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় না আসলেও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে। এক পর্যায়ে সে চাঁদপুরে আসলে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেনের নেতৃত্বে বুধবার রাতে থানা পুলিশ চাঁদপুর শহরের বিপণিবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন।

এ সময় সঙ্গে থাকা ইউনুছ গাজীর মা পেয়ারা বেগম (৫৫), ফুফু হাজেরা বেগম (৬০) ও ফুফাতো বোন জেসমিন আক্তারকে (৪০) নিয়ে পুলিশ পাহারায় ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে করোনা টেস্ট রিপোর্টে ফুফু হাজেরা বেগমের করোনা পজিটিভ আসায় তাকে শুক্রবার চাঁদপুর সদর হাসপাতালের আইশোলেশন ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ভারত থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরেন ইউনুছ গাজী ও তার ভাই ইউছুফ গাজী। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় ইউছুফ গাজী মারা যান। এদিকে ফরিদগঞ্জে ভারতফেরত আরও দুইজন লোক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন শেষে করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ায় তারা বাড়ি ফিরেছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শহীদ হোসেন জানান, ইউনুছ গাজী করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই খোঁজাখুঁজি করার পর উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

তিনি জানান, গত ২২ মে গভীর রাতে যশোর ডিবি পুলিশের একটি দল ইউনুছ গাজীকে যশোর হাসপাতালে নিয়ে যায়।