পরকীয়া প্রেমে নিঃস্ব প্রবাসীর স্ত্রী, টাকা ফিরে পেতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন!

রকিব হাসান নয়ন, জামালপুর প্রতিনিধি : স্বামী বিদেশে, তিন সন্তান নিয়ে ভালোই দিন কাটছিলো। প্রায় প্রতিদিনই স্বামীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়। বিদেশ থেকে স্বামী খরচের টাকা পাঠান। সেই টাকায় দিয়ে তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ মিটিয়ে আবার কিছু জমাতেও থাকে। সব মিলিয়ে তাদের জীবন ভালো কেটে যাচ্ছিলো।

কিন্তু বছর খানেক পর সংসারে আর সুখ থাকে না। তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতিতে সেই সংসার তছনছ হয়ে যায়। স্বামীর বন্ধু আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৫) সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের মকবুলের ছেলে প্রবাসী আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৫) সাথে “দীর্ঘ দিন ধরে কথোপকথনের মধ্যে দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

ভুক্তভোগী জানায়, আমাদের প্রেমের সম্পর্ক অনেক দিনের। আমাদের প্রেমের সম্পর্ক আরিফের পরিবারের সবাই জানে এবং আরিফের বাবার সাথে প্রায় সময় কথা হয়েছে। আমার স্বামী প্রবাসে থাকে টাকা পাঠায় আমার একাউন্টে। আরিফ আমাকে বিয়ে করার কথা বলে বিভিন্ন ধাপে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বিদেশ থেকে আরিফ ফোনে বলতো আমার বাড়িতে টাকার সমস্যা, ঘর বাড়ি ঠিক করতে হবে, আসবাবপত্র কিনতে হবে। আমি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আরিফের বাবা মকবুলের হাতে টাকা দিতাম।

তিনি আরও বলেন, আমি বেশির সময় ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আরিফের বাবার হাতে টাকা দিয়েছি। ২ মাস যাবত আমার সাথে আরিফের কথাবার্তা হয় না‌। তাই আমি শুক্রবারে এই বাড়িতে এসেছি। এর আগেও আমি একবার তাদের বাড়িতে এসেছিলাম টাকার ফেরত দেবার কথা বলে চেয়ারম্যান আমাকে বাড়িতে রেখে আসেন। আমার টাকা ফেরত দিলেই আমি এই বাড়ি থেকে চলে যাবো।

আরিফের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আমি প্রথম বার ৮০ হাজার টাকা নিছি। তারপর আরো কিছু টাকা নিয়েছি। সেটা আমি মিথ্যা বলবো না। মোট কত টাকা নিয়েছি সেটা আমার জানা নাই। আমার ছেলে তার একাউন্টে পাঠিয়েছে আমি ওই টাকাই নিয়েছি। আমি জানি আমার ছেলেই টাকা পাঠিয়েছে৷ কারণ আমার এই সময় একাউন্ট ছিল না। তাই তার একাউন্টে টাকা দিছে আমার ছেলে।

আরিফ ইসলাম জানান, আমার সাথে প্রথমে মোবাইলে পরিচয় হয় বোন হিসাবে। তারপরে ফোনে কথা-বার্তা হয়তো মাঝে মধ্যেই। আমার কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছে সে, আমার বাবা মূর্খ মানুষ তাই মাঝেমধ্যেই হালিমার ব্যাংক একাউন্টে ও বিকাশে টাকা পাঠিয়েছি আমি। সেই টাকাগুলো আমার বাবাকে দিয়েছে। তাছাড়াও আমার কাছ থেকে তার বাবার কথা বলে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। টিভি কেনার কথা বলে ৩৫ হাজার টাকা নিয়েছে আরো বিভিন্ন সময় টাকা নিয়েছে।

ঘোষেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ওবায়দুর রহমান বলেন, এর আগে একবার মকবুলের বাড়িতে এসেছিল মেয়েটি , তখন আমি বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে ছিলাম। আবার মকবুলের বাড়িতে এসেছে সেটা আমি জানলাম।‌ মীমাংসা করার জন্য দুই পক্ষকেই আমি‌ ডাকছি।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এম ময়নুল ইসলাম বলেন, এবিষয়ে আমি আবগত আছি। আমরা মৌখিকভাবে একটা অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ ভুক্তভোগী ওই নারীকে আইনী সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।