ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’: জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় জনপ্রতিনিধিসহ সবাইকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ মোকাবিলায় ভার্চুয়াল আয়োজিত এক জরুরি সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, দেশের উপকূলীয় এলাকার জেলা প্রশাসক, মেয়র, ওয়াসার প্রতিনিধি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা ভার্চুয়াল সভা করেছি। এ সভায় সংস্থাগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনে তাদেরকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজ (মঙ্গলবার) সভায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সবার প্রস্তুতি ভালো। এজন্য আমরা আশা করছি, অন্যান্য বছরের মতো এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা সফল হবো, ইনশাআল্লাহ। এ সময় ঘূর্ণিঝড় ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি কন্ট্রোল রুম খোলার নির্দেশ দেন। এ কন্ট্রোল রুমের ফোন নাম্বার ৯৫৪৫৪১৫।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান এবং জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান যে কোনো দুর্যোগে মানুষকে সচেতন, নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আসাসহ মানসিকভাবে শক্তি যোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক থাকে। এ কারণে জনপ্রতিনিধিরা মানুষকে দুর্যোগ সম্পর্কে সতর্ক এবং সচেতন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সব স্তরের জনপ্রতিনিধি, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বসে করণীয় ঠিক করে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিলে যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি সম্পর্কে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সহযোগিতায় এই কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে উপকূলীয় অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে খোলা অন্যান্য কন্ট্রোল রুমের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে জলোচ্ছ্বাস হওয়ায় ওসব এলাকায় তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। এ সময় জরুরি পানি সরবরাহ করতে হয়। স্যানিটেশন ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখতে হয়। এ কাজগুলো ওয়াসা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর করে থাকে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এ কারণে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো তৃণমূল পর্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ইতোমধ্যে মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ওয়াটার পিউরিফাই ট্যাবলেট, স্যানিটেশন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। কার্যক্রম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র, উপকূলীয় জেলার ডিসি, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান