প্লাবিত ওডিশা-পশ্চিমবঙ্গ, বুক পানিতে দাঁড়িয়ে রিপোর্ট

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এই দুই প্রদেশে এই মুহূর্তে ভারী বর্ষণ এবং তীব্র বাতাস বইছে।পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক এলাকা।বুক পানিতে দাঁড়িয়ে রিপোর্ট করতে দেখা গেছে স্থানীয় সাংবাদিকদের।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস শক্তি সঞ্চয় করে অতিপ্রবল রূপে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় ওডিশায় মূল আঘাত হেনেছে। এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ১৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে ওডিশার কিওনঝর জেলার পঞ্চপল্লী গ্রামে ঝড়ের তাণ্ডবে গাছ চাপা পড়ে একজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তা সরোজ কুমার দত্ত আলজাজিরাকে জানিয়েছেন।

বুধবার (২৬ মে) সকাল ৯টার দিকে ইয়াসের প্রাথমিক আঘাতে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। একই প্রদেশের ময়ুরভাঞ্জ জেলার জগন্নাথ খুন্তা গ্রামের একটি পুকুর থেকে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) ইয়াসকে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে তালিকাভূক্ত করেছে। দেশটির টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ইয়াসের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে, তীব্র বাতাস এবং ভারী বর্ষণ হচ্ছে ওডিশায়। ঝড়ের তাণ্ডবে অনেক গাছপালা উপড়ে পড়েছে ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত বাড়িঘর।

আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মুখপাত্র বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবের প্রক্রিয়া সকাল ৯টার দিকে শুরু হয়েছে। এটি আরও তিন থেকে চার ঘণ্টা ধরে অব্যাহত থাকবে। বিকেলের দিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করে ঝাড়খণ্ড রাজ্য অতিবাহিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, সামুদ্রিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় প্রলে থেকে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলে ঘূর্ণিঝড় তওকতের আঘাতে ১৫৫ জনের প্রাণহানি ঘটে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (দুপুর ২টা) অন্তত তিনজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ইয়াসের প্রভাবে ওডিশা এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের নিম্নাঞ্চলগুলোতে ভারী বর্ষণ এবং তীব্র বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতের আগেই এক টর্নেডোতে তিনজন নিহত হয়েছেন।

ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৬৫টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বেশিরভাগ অঞ্চলই প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ১৫ লাখ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া, কলকাতা, সংলগ্ন জেলা হুগলি, নদিয়া এসব জায়গায় আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়। উপকূলবর্তী এলাকায় বাতাসের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার।

পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের বিমানের উড্ডয়ন-অবতরণ বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইয়াসের তাণ্ডবের আশঙ্কায় ওডিশার রাজধানী ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরও বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকে লোকজনকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,

আমাদের কাছে প্রত্যেকের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।