‘ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই’

ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ থেকে বাংলাদেশ ঝুঁকিমুক্ত বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। বাংলাদেশের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাত হানার আর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতিবিষয়ক জরুরি সভায় প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

ডা. এনামুর রহমান বলেন, আল্লাহতায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই, তিনি বাংলাদেশকে একটি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় থেকে রক্ষা করেছেন। রক্ষা করেছেন এ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের জানমাল এবং ফসল ও মাছের ঘেরকে। আল্লাহর কাছে আবারও শুকরিয়া জানাই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজ সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে আমাদের পশ্চিমে ওডিশার উত্তরে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড়টি। এটি এখনো অতিক্রম করছে। আমরা আশা করছি বিকেল ৪টা নাগাদ এটি ওড়িশা অতিক্রম করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটা ইতিমধ্যে সকালে ওড়িশার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে। এটি মুভমেন্ট করলেও ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে করবে। বাংলাদেশে আঘাত হানার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।

এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০৫ কিলোমিটার ও পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ দুপুরের দিকে উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে ঝড়-বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। অনেক এলাকাতেই নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কয়েক ফুট উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ দুপুরে ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমের সময় খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেলী, চাঁদপুর ও চট্টগ্রাম জেলায় ও এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারী ও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরের সব মাছ ধরা নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।