৯৫ শতাংশ ভোট পেয়ে আসাদ চতুর্থবার সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত

সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আবার জয়ী হয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। এ নিয়ে চতুর্থবার। তবে বিরোধীরা এ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যায়িত করে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচন নিয়ে যথারীতি প্রশ্ন তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালির মন্তব্য, ‘এ নির্বাচন স্বচ্ছ নয়, সবার জন্য উন্মুক্তও নয়’।

এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট আসাদ বলেছেন, ‘আপনাদের মতামতের সামান্য গুরুত্বও নেই।’ খবর বিবিসির। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয় বুধবার। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের স্পিকার ভোটের ফল ঘোষণা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৭৮.৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ৯৫.১ শতাংশ ভোটই আসাদ পেয়েছেন।

সিরিয়া সরকারের মুখপাত্র বলেন, সিরীয়রা তাদের প্রেসিডেন্টকে বেছে নিয়েছেন। আসাদ সিরিয়ান আরব রিপাবলিকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। এ বিপুল জয়ের ফলে আসাদ আরও সাত বছর সিরিয়া শাসনের অধিকার পেলেন। আসাদ সরকারের দাবি, এ নির্বাচনই দেখিয়ে দিল, এক দশক পুরোনো সংঘাত সত্ত্বেও সিরিয়ার মানুষ স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছেন।

এই সংঘাতে কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছেন। দেশের অর্ধেক মানুষ তাদের বাসস্থান ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ এ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, জাতিসংঘের প্রস্তাব মানা হয়নি। নির্বাচনে আন্তর্জাতিক তদারকির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। যেখানে সরকারের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেখানেই মানুষ ভোট দিতে পেরেছেন।

কিন্তু সিরিয়ায় লড়াইয়ের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে চলে গিয়েছেন, তারা ভোটে অংশ নেননি বা নিতে চাননি। তার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল্লাহ সালৌম আব্দুল্লাহ ও মাহমুদ আহমেদ মারি পেয়েছেন যথাক্রমে ১.৫ শতাংশ ও ৩.৩ শতাংশ ভোট। সিরিয়ার বিরোধী দলগুলো এটিকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ আখ্যায়িত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ এ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।