সাতক্ষীরায় হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, আসতে পারে লকডাউনের ঘোষণা

জাহিদ হোসাইন, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: দিন দিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে সাতক্ষীরায়। গত কয়েক দিনের পরীক্ষায় যার প্রমাণও মিলেছে। এমন পরিস্তিতিতে সাতক্ষীরায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে নতুন করে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ।

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে বিধিনিষেধ না মেনে কেনাকাটা ও অবাধ যাতায়াতের ফলে এমন ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনই স্থানীয়ভাবে করোনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাপনার ওপর বেশি জোর না দিলে মহামারী আকার ধারণ করতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

করোনা ভাইরাসের এই প্রতিরোধে সাতক্ষীরা জেলাকে লকডাউনের আওতায় আনাসহ প্রয়োজনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালকে ‘করোনা ডেডিকেটেড’ হাসপাতালে রুপান্তরের কথা জানিয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন হুসাইন শাফায়াত বলেন, ঈদের আগে জেলায় করোনার সংক্রমণের হার ছিলো ১৩ শতাংশ। তবে ঈদ পরবর্তী করোনার সংক্রমণের হার ১৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩০ শতাংশ।

সম্প্রতি কিছুদিন করোনাটা টেস্টের ৫০ শতাংশেরও বেশি রিপোর্ট পজেটিভ এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙ্গে যেতে পারে। এ কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সাতক্ষীরাকে লকডাউনে আওতায় আনা হবে। এছাড়া সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় সেবায় ছিট বাড়ানোসহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালকে প্রয়োজনে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবায় ১০০টি ছিটের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১০০টি ছিটের বিপরীতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন ১১০ জন। বেডের চেয়ে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় করোনায় আক্রান্ত ৭ জনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্যরা করোনায় চিকিৎসাসেবায় ছিট/বেড না পেয়ে জেলার বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।

তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২৫২ জন। এর ভিতরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৫ জন ও করোনা সন্দেহে মারা গেছে ২০৭ জন। তবে বর্তমানে যেভাবে করোনা পরিস্থিতির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে পূর্বের সব রেকর্ড ভেঙ্গে যেতে পারে। ভেঙ্গে যেতে পারে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও।

প্রতিবেশী দেশ নেপাল ও ভারতের ঘটনা দেখে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত, নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকার নেপালি ভূখণ্ডে সম্প্রতি সংক্রমণ অনেক বেশি হয়েছে এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এসময় তিনি করোণার সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে সবাইকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।