সৌদিআরবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ‘লায়লা-মজনুর’ স্মৃতি বিজড়িত পাহাড়

বিস্তৃতি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সৌদি আরব দাম্মামের আল-হাসা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা। মরুভূমি আর ধু-ধু বালুর পাহাড় সাথে খেজুরের বিশাল বাগান বেষ্টিত মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ সৌদি আরব।
সরজমিনে সেখানে অবস্থান করে দেখা যায়, এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সবুজ লীলা ভূমি। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ দেখলে কিছুতেই মনে হবে না যে এটা মরুভূমির দেশ, মনে হবে যেন বাংলাদেশের নির্জন পাহাড়ী এলাকার কোন এক প্রান্তর।

সৌদি আরবের জাতীয় ফল খেজুর। যে ফলটি বিশ্বনবী হয়রত মোহাম্মাদ (সাঃ) ফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী পছন্দ করতেন। এজন্যই এটি সৌদি আরবের জাতীয় ফল এবং খেজুর গাছটিও জাতীয় গাছ হিসেবে বিবেচিত করা হয়েছে। সেই খেজুর বাগানেই পরিবেষ্টিত জেলার পুরোটি কাতার এবং দুবাই সংলগ্ন সীমান্তনবর্তী এলাকা। সেখানেই অবস্থিত বিশ্ব ইতিহাসের সেই নন্দিত প্রেম কাহিনী লায়লা মজনুর প্রেম বিরহের স্মৃতি বিজরিত পাহাড়। এটি লায়লা মজনুর প্রেমের পাহাড় বলে সকলের কাছেই পরিচিত।

এখানে প্রতিদিন বিকাল বেলায় শত শত দর্শনার্থীর ভিড় জমে। যার প্রবেশ টিকেট ৫০ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১,১২০ টাকা )। এর কিছু দূরে গেলেই দেখা যায় নির্জন পাহাড়ী এলাকার ভিতরে একটি সুন্দর মনোরম চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানাটিতে রয়েছে বাঘ, সিংহ, হরিন, গাধা, শিয়াল,বানর সহ নানা প্রজাতির বন্য প্রানী। এখানকার প্রবেশ মূল্য ১০ রিয়াল যা (বাংলাদেশী মুদ্রায় ২২০ টাকা )। চিড়িয়াখানা থেকে কিছু দূরেই রয়েছে হুপ হুপ নামের প্রবাসী বাংলাদশী মার্কেট। প্রতিদিন বিকেল বেলায় বসে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মিলন মেলা। সেখানে দীর্ঘদিন যাবৎ অবস্থান করে আসছে কয়েক হাজার বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং শ্রমিক।

সৌদি আরবে লায়লা মজনুর স্মৃতি বিজড়িত পাহাড় দর্শনার্থীদের ভিড় বিশ্ব ইতিহাসের নন্দিত প্রেম কাহিনী জানার কৌতুহল থেকে সেখানে পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়া | লায়লা মজনুর প্রেম কাহিনী শোনেনি এমন লোক খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। এই অমর প্রেম কাহিনী সারাবিশ্বজুড়ে সুপরিচিত আমির পুত্র কায়েস আর বণিক কন্যা লায়লার প্রেম বিরহের স্মৃতি বিজড়িত পাহাড়টি সৌদি আরবের আল খোবার দাম্মাম শহর থেকে প্রায় ১৮৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রতিদিন দর্শনার্থীদের ভিড় জমায় বিশ্ব ইতিহাসের এই নন্দিত প্রেম কাহিনী লায়লা মজনুর প্রেম কাহিনীর স্মৃতি বিজড়িত পাহাড়টি দেখতে।

আমির পুত্র কায়েস বাল্যকালে বণিক কন্যা লায়লার প্রেমে পরে মজনু বা পাগল নামে পরিচিতি পান, লায়লাও মজনুর প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করতেন। কিন্তু এক সময় পারিবারিক বাধা আসে ফলে কায়েস (মজনু) পাগল রূপে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতে থাকেন, অন্যদিকে লায়লার আরেক জায়গায় বিয়ে হলেও তার মন থেকে যায় মজনুর ভালোবাসা। তাদের দীর্ঘবিরহ জীবনের অবসান হয় মৃত্যুর মাধ্যমে|

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ দাম্মাম, আল হাসা শহর কাতার এবং দুবাই সংলগ্ন সীমান্ত বর্তি এই এলাকাটিতে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেজুরের বাগান রয়েছে আর এই এলাকাতেই বিশ্ব ইতিহাসের সেই নন্দিত প্রেম কাহিনী লায়লা মজনুর প্রেম বিরহে স্মৃতি বিজড়িত পাহাড়টি|

লায়লা মজনুর প্রেমের পাহাড় বলে সকলের কাছে পরিচিত এই পাহাড়টি দেখতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের দর্শনার্থীর ভিড় জমে এখানে। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার বিশেষ করে ঈদের ছুটিগুলির মত ব্যাপক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে এই লায়লা-মজনুর পাহাড়ে।

বিশাল এই পাহাড়ের প্রবেশ মুখে তৈরি করা হয়েছে রির্সোট মিউজিয়াম গাড়ি পার্কিংসহ নানা ধরণের দোকানপাট। সৌদি রিয়াল ৫০ দিয়ে টিকেট কেটে ভিতরে প্রবেশ করতেই দেখা যাবে মিউজিয়াম, দরজা খুলতেই দেখতে পাবেন সেই পাহাড়ের প্রবেশপথ।