মিটিং করে, ঘোষণা দিয়ে ১৪ বাড়িতে আগুন-লুটপাট!

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার হাওর এলাকার নোয়াগাঁও গ্রামে ঘোষণা দিয়ে বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট করেছে দুবৃত্তরা। এর আগে তারা মিটিং করে ক্ষতি করার ঘোষণা দেয়। এ সময় দুবৃত্তরা ১৪টি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। বাড়িগুলো লুট করে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল নিয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর। এ ঘটনার সময়ে ওই এলাকার পাশেই উভয় পক্ষের লোকজনকে নিয়ে বিরোধ মিমাংসার চেষ্টা করছিলেন প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে রাতে সাতাইহাল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুর উদ্দিন বীর প্রতিকের মৎস্য ফিশারিতে অবস্থিত একটি ঘরে ঢুকে আবুল মিয়া ও তার স্ত্রী ঝারু বেগমকে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে গতকাল শনিবার সাতাইহাল গ্রামে ৬ মৌজা পঞ্চায়েতের লোকজন মিটিং করে রবিবার আক্রমণ করার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়।

বিষয়টি রাতেই প্রশাসন ও পুলিশ অবগত হয়। রবিবার সকালে প্রায় পাঁচ হাজার জনতা সাতাইহাল গ্রাম থেকে নোয়াগাও গ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি নিলে সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন, ওসি ডালিম আহমদ জনপ্রতিনিধিদেরকে নিয়ে লোকজনকে থামানোর চেষ্টা করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংশার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এক পর্যায়ে কিছু লোক লাটিসোটা নিয়ে সাতাইহাল থেকে চার কিলোমিটার দূরে নোয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা ১৪টি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ডালিম আহমদ জানান, আমরা যখন হাজার হাজার লোককে শান্ত করে বিরোধ মিমাংসার চেষ্টা করছিলাম তখন ভিন্ন পথে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু লোক নোয়াগাঁও গ্রামে উপস্থিত হয়ে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বর্তমানে সেখানকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।