বাক-ব্যক্তি-সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি বাম জোটের

বাক-ব্যক্তি-সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সরকারি হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। জোটের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তাকে হেনস্তাকারী আমলা ও পুলিশের শাস্তি, স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও সচিবের অপসারণ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও অফিসিয়াল সিক্রেসি এ্যাক্ট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়। বাম জোটের সমন্বয়ক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বতৃতা করেন সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র মানস নন্দী, কমিউনিস্ট লীগের অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণসংহতি আন্দোলনের বাচ্চু ভুইয়া, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ ও বাসদ নেতা খালেকুজ্জামান লিপন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী আমলার প্রতিহিংসার শিকার। রোজিনাকে বাতিল আইনে মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩য় ভাগের মৌলিক অধিকারের ২৬ ধারার সাথে অফিসিয়াল সিক্রেসি এ্যাক্ট সাংঘর্ষিক। ফলে যেদিন থেকে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়েছে, সেদিন থেকেই সংবিধানের ৩য় ভাগের মৌলিক অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক সকল আইন বাতিল হয়েছে।

কিন্তু স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ২য় সংশোধনীর মাধ্যমে কালাকানুন তৈরির রাস্তা খুলে দেয় তৎকালীন শেখ মুজিব সরকার। যার পথ বেয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ একের পর এক কালাকানুন জারী হতে থাকে। সর্বশেষ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নামক কুখ্যাত কালো আইন জারী করে নাগরিকের বাক ব্যক্তি সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে। যার বলি হচ্ছে সাংবাদিক, শিক্ষক, লেখক, কাটুনিস্টসহ মুক্ত চিন্তার মানুষেরা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত না, ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর আমলা প্রশাসন পুলিশকে ব্যবহার করে দিনের ভোট রাতে করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় বসেছে। ফলে আমলা-পুলিশের উপর নির্ভরশীল সরকার জনগণের যে কোন প্রতিবাদকে ভয় পায়। সামান্য কার্টুন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনামূলক লেখা কোন কিছুই সহ্য করতে পারে না। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমন করতেই সরকার কালাকানুন প্রণয়ন ও ব্যবহার করছে।

নেতৃবৃন্দ বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী নির্যাতন-নিপীড়ন ও কালাকানুন বাতিলের দাবিতে সকল বাম গণতান্ত্রিক দল-ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।