পাবজি-ফ্রি ফায়ার গেম বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

বাংলাদেশে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া। তিনি বলেন, ওই দুটি গেম কিশোর-কিশোরী এবং তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করেছে। যা মাদকের চাইতে ভয়াবহ। আমাদের প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (১ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ফ্রি ফায়ার আর পাবজি বন্ধের দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক পথের আলো ফাউন্ডেশন আয়োজিত মানববন্ধনে এই কথা বলেন ন্যাপ মহাসচিব। তিনি বলেন, ফ্রি ফায়ার আর পাবজি গেম বন্ধে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের বক্তব্য হতাশাজনক। তার বক্তব্য সমগ্র জাতিকে হতাশ করেছে।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধি নন, এই সকল গেম ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি। ন্যাপ মহাসচিব আরও বলেন, এ ধরনের গেম খেলার ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে চলে যাচ্ছে। অনলাইনে গেম খেলার পাশাপাশি ভার্চুয়ালি অর্থ লেনদেন হচ্ছে। আর এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাষ্ট্র, সমাজ, ব্যক্তি ও পরিবার।

তিনি বলেন, সম্প্রতি নেপালে পাবজি নিষিদ্ধ করে দেশটির আদালত। একই কারণে ভারতের গুজরাটেও এ গেম খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। এমনকি গেমটি খেলার জন্য কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। বাংলাদেশেও পাবজি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, পরে আবার চালু করা হয়। কাদের স্বার্থে চালু করা হলো?

এদিকে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা মহামারিতে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে অনলাইনভিত্তিক ক্লাসের জন্য অভিভাবকরা সন্তানদের হাতে ল্যাপটপ, মোবাইল তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে। এ সুযোগে তরুণ প্রজন্ম এ গেম দুটির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে।

ফ্রি ফায়ার ও পাবজি আসক্তির ভয়াবহতা তুলে ধরতে উদাহরণ দেন মহিউদ্দিন আহমেদ, গত ২১ মে চাঁদপুরে মামুন (১৪) নামে এক তরুণ মোবাইলের ডেটা কেনার টাকা না পেয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করে বলে জানান তিনি।