মাহমুদ আব্বাসের দ্বিমুখী নীতিতে ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা

ইসরাইলের গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও নতুন সংকটে পড়েছে ফিলিস্তিনিরা। একদিকে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভের কারণে ধরপাকড় চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। একইভাবে নিজ নাগরিকদের ওপর আটক অভিযান চালাচ্ছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। পশ্চিম তীরে বেছে বেছে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সরকারের এমন দ্বিমুখী নীতিতে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনি জনগণ। ইসরাইলের দখলদারির জেরে ফিলিস্তিন এখন মূলত দুভাগে বিভক্ত। যার একটি মিসর সীমান্তে ও ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলবর্তী ভূখণ্ড গাজা উপত্যকা। যার নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস। আরেকটি জর্ডান নদীর পাড়ের ওয়েস্ট ব্যাংক বা পশ্চিম তীর। প্যালেস্টাইনিয়ান অথোরিটি বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নামে (পিএ) যার শাসন করছে মাহমুদ আব্বাসের সরকার।

ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে গড়ে উঠেছে ইসরাইল। বছরের পর বছর ধরে এই দখলদারি চালিয়ে যাচ্ছে জায়নবাদী দেশটি। প্রতিবাদ করলেই নিরীহ-নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। পাখির মতো গুলি করে হত্যা করে। আটক করে-মামলা দেয়-জেলে ভরে। প্রায় এক শতাব্দীকাল ধরে হত্যাযজ্ঞ, সীমাহীন নির্যাতন ও নিপীড়নের সহজ শিকার ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু এবার তারা সম্পূর্ণ নতুন সংকটের মুখোমুখি। গ্রেফতার ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে নিজ সরকার ও প্রশাসনের হাতেই। ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায়ই নামতে দিচ্ছে না মাহমুদ আব্বাসের প্রশাসন। নামলেই আটক করছে, নির্যাতন চালাচ্ছে।

অধিকৃত পূর্ব-জেরুজালেমের শেখ জাররাহ মহল্লার অধিবাসীদের ইসরাইলের পরিকল্পিত উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। নারী ও শিশুসহ হত্যা করে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনিকে। এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-প্রতিবাদে নামে ফিলিস্তিনিরা। এর মধ্যে প্রায় ১১ দিনের ভয়াবহ তাণ্ডবের পর গাজার নিয়ন্ত্রক হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর কয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও থেমে নেই ইসরাইলি বাহিনী। ঘোষণা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপর ধরপাকড় চালাচ্ছে।

এক প্রতিবেদনে মিডিল ইস্ট আই জানিয়েছে, ঠিক ইসরাইলি বাহিনীর মতোই পশ্চিম তীরে নিজ নাগরিকদের বিশেষ করে ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। এই গ্রেফতার অভিযান সবচেয়ে বেশি চালানো হয় গত ২২ মে। ওইদিনই হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। রামাল্লাভিত্তিক একটি অধিকার সংস্থার রিপোর্ট মতে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরাইলবিরোধী পোস্ট দেওয়ায় এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এই আটক অভিযানের সর্বশেষ শিকার তারেক আল-খুদাইরি। পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে পরিবারের সঙ্গে বাস করেন ২৩ বছর বয়সি এই যুবক। ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভে নিয়মিত উপস্থিতির কারণে বেশ পরিচিত তিনি। ২২ মে যুদ্ধবিরতির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে আটক করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে চারদিন পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভের কারণে যে তিনি আটক হতে পারেন এটা যেন তার বিশ্বাস ও ধারণার বাইরে ছিল। মুক্তির পর আলজাজিরায় এক সাক্ষাৎকারে সেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খুদাইরি