বাংলাদেশের আফগান-পরীক্ষা

করোনাভাইরাসে নাকাল বিশ্ব। মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পালটে গেছে সবকিছু। খেলার সূচিতেও পরিবর্তন আসবে, এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ যৌথ বাছাইয়ের সূচিও তাই বারবার বদল হয়েছে। দেশে দেশে লকডাউনে বেশ কয়েকবার বন্ধ থাকার পর ফের চালু হয়েছে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলা।

গত দুবছরে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। তিনটি বাকি। আজ সেই তিন ম্যাচের প্রথমটি খেলবেন জামাল ভূঁইয়ারা। প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান। নিরপেক্ষ ভেন্যু দোহার জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ই-গ্রুপের ম্যাচ। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টি স্পোর্টস ও গাজী টিভি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের এই শেষ তিনটি ম্যাচ গত বছর ঘরের মাঠে খেলত বাংলাদেশ। আফগানিস্তান, ভারত ও ওমানের সঙ্গে পয়েন্ট পাওয়ার স্বপ্ন দেখা জামাল ভূঁইয়ার দল স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা হারিয়ে এখন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলছে। আফগানিস্তান ও ভারতকে হারানোর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই কমে গেছে। এক পয়েন্ট পাওয়ার প্রত্যাশা লাল-সবুজ দলের। পরিসংখ্যান ও র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে আফগানিস্তান। ফিফা বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ১৮৪। আফগানিস্তান ১৪৯।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর আগে মুখোমুখি লড়াইয়ে দুদলের মধ্যে ছিল সমতা। ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাজিকিস্তানের দুশানবেতে অনুষ্ঠিত বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে আফগানদের কাছে ১-০ গোলে হারা বাংলাদেশ হেড-টু-হেডে এখন পিছিয়ে। দুদলের সাতবারের সাক্ষাতে আফগানিস্তান দুটি এবং বাংলাদেশ জিতেছে একটিতে।

বাকি চার ম্যাচ অমীমাংসিত। আজ জিতে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির সঙ্গে সমতা আনার সুযোগ জেমি ডের দলের। বাংলাদেশের একমাত্র জয় প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় আগে। ১৯৭৯ সালে ঢাকায় এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আফগানিস্তানকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করা একমাত্র সুখস্মৃতি লাল-সবুজদের জন্য।

প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান গত মাসে ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর জাতীয় দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। বাংলাদেশ খেলেছে মাত্র একটি। সেটাও প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ক্লাব শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ঢাকায়। আসল লড়াইয়ের আগে দুদলের প্রস্তুতির পার্থক্য স্পষ্ট। অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেন, ‘এটা ঠিক যে, র‌্যাংকিংয়ে আফগানিস্তান আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। তবে আমরা র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বাসী নই। যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে।’

কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে ড্র ম্যাচের কথা মনে করিয়ে দিয়ে লাল-সবুজ অধিনায়ক বলেন, ‘তখন কিন্তু সবাই আমাদের আন্ডারডগ ভেবেছিল। সবাই বলেছিল আমরা ভারতের কাছে পাত্তা পাব না। কিন্তু আমরা তাদেরকে রুখে দিয়েছি। শেষ মুহূর্তে গোল হজম না করলে জিততাম। তাই আমি মনে করি, আফগানিস্তানের বিপক্ষেও চমক দেখাতে পারব।’ প্রত্যাশা বড় হলেও তা পূরণের উপাদান কম বাংলাদেশের।

স্কোরিং সমস্যা রয়েছে। ভারতের বিপক্ষে গোল করা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সাদ উদ্দিন চোটের কারণে ছিটকে গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় দলের সঙ্গে কাতারে যেতে পারেননি আরেক ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিলও। দুই উইঙ্গারকে ছাড়া আফগানিস্তানের মতো শক্তিশালী দলের রক্ষণভাগে চিড় ধরানো কঠিন।

কোচ জেমি ডে অবশ্য আশাবাদী, ‘এটা ঠিক যে, দলে দুজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় নেই। যারা আছে, তাদের নিয়ে আমি আশাবাদী। আশা করি, গোল পাবে তারা।’ শুধু গোল করলেই হবে না, আফগানিস্তানের আক্রমণ রুখে দেওয়াটাও বড় চ্যালেঞ্জ।