শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ছে আরও যে কয় দিন?

বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের পর ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে ৩১ মে সীমিত পরিসরে অফিস ও ১ জুন থেকে গণপরিবহন খুলে দেওয়া হয়।

১৭ মার্চ থেকে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বাড়ানো হবে কি না, স্থগিত থাকা এইচএসসি পরীক্ষা কবে হবে এই নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা রয়েছেন দ্বি’ধা’দ্ব’ন্দ্বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন বন্ধ রাখা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ঠরা।

এ বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত কথা বলেছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে না এলে শিক্ষার্থীদের অটোপাসের কথাও বলা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কি হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় সবাই।

এদিকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা বা এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিসভা বা প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ চাইলে তা জানানো হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘আমরা বলে দিয়েছি, যেকোনো সেক্টর রেসপেক্টিভ মিনিস্ট্রিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যারা কর্তৃপক্ষ তারা নিজ বিবেচনায় ব্যবস্থা নেবেন।

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা এবং এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রণালয় বলছে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত না আসলে তারা সিদ্ধান্ত জানাবেন না, এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ‘একদম প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করার পর আমরা কনভে করে দিয়েছি, এরপরও তারা যদি মনে করে যে সাজেশন দরকার বা কোনো রুলিং দরকার মন্ত্রিসভার বা প্রধানমন্ত্রীর, আমাদের যদি রেফার করে তাহলে সেটা বিবেচনা করা হবে। কিন্তু এখন অথরিটি তাদের কাছেই দিয়ে দেওয়া আছে। ’

অপরদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি বাড়ানো হবে কি না, স্থগিত থাকা এইচএসসি পরীক্ষা এবং করোনাকালীন শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ৩০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করবেন।

ওই সংবাদ সম্মেলনে দেশে করোনা ভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা, এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে করণীয় কী হতে পারে, সে বিষয়েও সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, আসতে পারে ষষ্ঠ থেকে একাদশ শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিও। মহামারির কারণে কয়েক দফায় গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

গেল ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে টিভিতে ক্লাস সম্প্রচার করা হচ্ছে। আর উচ্চ মাধ্যমিক এবং উচ্চ শিক্ষাস্তরে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। মহামারির কারণে এ বছর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে স্কুলে স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে। অষ্টমের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষাও বাতিল করা হয়েছে। নভেম্বরে পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনী পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। জেএসসি পরীক্ষা নিয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সভা করে একটি গাইডলাইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের প্রস্তাব করেছে।

গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে স্থগিত করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, ‘এইচএসসি পরীক্ষার বিকল্প নেই। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসহ উচ্চ শিক্ষার বিষয়টি এইচএসসি পরীক্ষার ওপর নির্ভর করছে। এজন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ’ সূত্রঃbd24রেপরত