শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বৃদ্ধি, যে ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি আরো বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমার শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিতে ফেলে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাই না। আগামী সপ্তাহের মিটিংয়ে আমরা ফাইনাল সিদ্ধান্ত জানাতে পারবো।

বুধবার দুপুরে শিক্ষা বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনাকালে এসব তথ্য জানান তিনি।

এদিকে, এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। কিন্তু বিরাট সংখ্যক পরীক্ষার্থী এবং তাদের সাথে তাদের অভিভাবকরা, শিক্ষকরা এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে আমরা এখনোই কোনো সিদ্ধান্তে যেতে পারি না।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক শিক্ষার্থী বলেছেন তারা পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন চায়, এটা একটা বিষয় হতে হয়। আমরা পরীক্ষা ছাড়া মূল্যায়ন করার বিষয়টি নিয়েও ভাবছি। তাছাড়া দু’বছর পর যখন এখন শিক্ষার্থী চাকরি ইন্টারভিউ দিতে যাবেন- তখন তো কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন। আগামী সপ্তাহের সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে এসএসসির বিষয়ে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত জানাতে পারবো। আমরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর আগে অন্তত চার সপ্তাহ সময় দিবো। আমরা অনেকগুলো অপশন নিয়ে ভাবছি।

এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, এইচএসসির সিলেবাস কমানোর কোনো বিষয় নেই। যেহেতু উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই সব সিলেবাস আমরা কম্পিলিট করতে পেরেছিলাম। তবে, কবে পরীক্ষা নেয়া যাবে তা এখন বলা সম্ভব না।

এছাড়া অন্যান্য শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সামনের সভায় সব জিনিস জানানো হবে। আমরা নানান রকম অপশন নিয়ে ভাবছি। কোনো পরীক্ষা না নিয়ে অটো প্রমোশন নেয়া বা সিলেবাস কমিয়ে পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে আমরা ভাবছি। আমরা সমস্ত কাজ করেছি। আমরা কিছুদিনের মধ্যেই পরীক্ষার বিষয়ে জানাতে পারবো।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টিউশিন ফি নিয়ে সেসব আলোচনা আসে- বিশেষ করে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল ও অন্যান্য বেসরকারি বিদ্যালয়ের বিষয়ে। আমরা এসব স্কুলের অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে বসেছি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব বেতন আমরা চাইলেই কমিয়ে দিতে পারবো না। তাদের অনেক খরচ আসে। অনেকে লোন নিয়েও ভবন নির্মাণ করেছেন। আমাদের অভিভাবক যারা এসব স্কুলে পড়েন তারাও অনেকে এসব স্কুলে পড়ে। তাদের আয়ে এ করোনাকালে কোনো প্রভাব পড়েনি।

আমরা চাইলেই তাদের বেতন একটা নির্দিষ্ট অংশ কমিয়ে দিতে পারি না। আমরা বিভিন্ন স্কুলের সাথে কথা বলে দেখেছি, তারা বেশিরভাগই বলেছেন তারা অভিভাবকের অবস্থা বুঝে সমোঝোতা করতে রাজি আছে। আমরা একবারে না নিয়ে যাদের সমস্যা তাদের বেতন ভাগ ভাগ করে নেয়ার কথা বলেছি। আমরা সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছি। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রেখে অভিভাবকদের কষ্টের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

নতুন করে এমপিও হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা সরেজমিনে বাছাই করে গত বছর বেশ কিছু এমপিওর কাজ করেছি। আমরা করোনাকালেও অম্ভব পরিশ্রম করেও এমপিও শিক্ষকরা যেন টাকা পান সে বিষয় বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। অনেক সময় সনদ জালের মতো অনেক অভিযোগ থাকে বলে আমাদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি করতে হয়।

নতুন এমপিওর বিষয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা বিষয়টিকে একটু আধুনিকায়ন করতে চাই। আমরা বিভিন্ন জায়গার স্কুলগুলো কয়েকটাভাগে ভাগ করে জেলা, উপজেলা, গ্রাম্য পর্যায়ে ভাগ করে চূড়ান্ত করেছি। আশা করছি অক্টোবরের পর আমরা নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এমপিও আবেদন চাইতে পারবো। আমরা করোনার কারণে এ বছর এটা নাও হতে পারে। তবে, আমরা দ্রুত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

কওমী মাদ্রাসার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব মাদ্রাসা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবাসিক। তারা আমাদের শর্ত মানার বিষয়ে একমত হয়েছেন। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তারা বরাবরই আলাদা। এ বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা তাদের খোলার অনুমতি দিয়েছি। আমরা চাইলেই একসাথে তিন বা ছয়মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করতে পারি না। আমাদের পরিস্থিতি দেখে ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও একদম পড়াশোনার বাইরে নেই। তারা অনলাইনসহ অন্যান্য মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খোলার সময় আগে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া যেতে পারে। আমরা শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি সবার আগে গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করছি। আমরা করোনায় সবকিছু শতভাগ পারছি এমন না। তারপরেও আমরা আমাদের দিক থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি- জানান শিক্ষামন্ত্রী।