রিফাত শরীফকে হ’ত্যার পরিকল্পনার সময় নয়ন ব’ন্ডকে যা বলেন মিন্নি

বহুল আ’লোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলায় প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির মধ্যে মিন্নিসহ ৬ জনের মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আ’দালত। ফাঁ’সির আদেশের পরই মিন্নিকে হেফাজতে নেয় পু’লিশ। রিফাত হ’ত্যার পর থেকেই নানা রকম তথ্য প্রকাশিত হতে থাকে। তার বেশিরভাগ তথ্যই পাওয়া গেছে মিন্নি, রিফাত ও নয়নের ফোন কল থেকে।

আ’লোচিত এই ঘটনার আগে ও পরে মিন্নির সঙ্গে নয়ন ব’ন্ডের কথোপকথনসহ মেসেজ আদান-প্রদানের তথ্য উ’দ্ধার করে পু’লিশ। বরগুনা জে’লা পু’লিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্যের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, মিন্নি একটি সিম ব্যবহার করতেন যেটি নয়ন ব’ন্ডের দেওয়া। সিমটি নয়ন ব’ন্ডের মায়ের নামে রেজিস্ট্রেশন করা।

পু’লিশের দাবি, রিফাত শরীফের সঙ্গে বিয়ের পরও নয়নের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ওই সিমটি ব্যবহার করতেন মিন্নি। হ’ত্যাকা’ণ্ডের দিন সকাল ৯টা ৮ মিনিটে ওই নম্বর দিয়েই নয়ন ব’ন্ডকে কল করে ৬ সেকেন্ড কথা বলেন মিন্নি।

এসময় তাদের ৪০ সেকেন্ড কথা হয়। হা’মলার পর বেলা ১১টা ৩১ মিনিটে নয়ন ব’ন্ড মিন্নিকে একটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। পরে রিফাত শরীফ মা’রা যাওয়ার পর বিকেল ৪টার কিছু সময় আগে নয়ন ব’ন্ড মিন্নির কাছে আরেকটি এসএমএস পাঠিয়েছিলেন। পাঠানো ওই এসএমএসটিতে লেখা ছিল, ‘আমা’রে আমা’র বাপেই জন্ম দেছে।’

মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নেওয়া ওই পু’লিশ সদস্যের বরাতে গণমাধ্যমে বলা হয়েছিল, রি’মান্ডে মিন্নির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিন্নি বলেছেন, রিফাত শরীফকে মা’রার পরিকল্পনার সময় মিন্নি নয়ন ব’ন্ডকে বলেছিলেন, ‘তুমি যদি রিফাত শরীফকে মা’রতে পার, তাহলে বুঝব তোমা’রে তোমা’র বাপেই জন্ম দিছে।’

গত বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরের দিন ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অ’জ্ঞাত আরো ৫-৬ জনের বি’রুদ্ধে হ’ত্যা মা’মলা দায়ের করেন নি’হত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

এরপর ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক ও অ’প্রাপ্তবয়স্ক; দু’ভাগে বিভক্ত করে ২৪ জনের বি’রুদ্ধে আ’দালতে ত’দন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পু’লিশ। এতে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অ’প্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে অ’ভিযু’ক্ত করা হয়।

গত ১ জানুয়ারি রিফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির বি’রুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনা জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালত। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আ’সামির বি’রুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন আ’দালত। মোট ৭৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে এ মা’মলায়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ মা’মলার দুই পক্ষের যু’ক্তিতর্কের শুনানি শেষে বরগুনার জে’লা ও দায়রা জজ আ’দালতের বিচারক মো. আসাদুজ্জামান রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।