কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফিরছেন সাকিব, তাসকিন

গত বছর ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছেন তাসকিন আহমেদ। ফিটনেসের উন্নতি তাসকিনকে সাহায্য করছে বোলিংয়ে। চলতি বছর টানা তিনটি সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন ডানহাতি এ পেসার। নিউজিল্যান্ড সফর, শ্রীলঙ্কা সফর এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে তিন ফরম্যাটে তাসকিনের বোলিংয়ে সন্তুষ্ট টিম ম্যানেজমেন্ট।

যার পুরস্কার হিসেবে ২০২১ সালে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফিরছেন দ্রুতগতির এ পেসার। নির্বাচকদের খসড়া তালিকায় আছেন তাসকিন। কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা বোর্ডের আগামী সভায় অনুমোদন পাবে। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা সাকিব আল হাসানও তিন ফরম্যাটের চুক্তিতে থাকছেন।

গত বছর বিসিবির চুক্তিতে ছিলেন ১৭ ক্রিকেটার। যার মধ্যে মাত্র সাত ক্রিকেটার লাল ও সাদা বলের চুক্তিতে ছিলেন। গতকাল বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, এবার চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারের সংখ্যা হতে পারে ১৮। তবে তিন ফরম্যাটের চুক্তিতে থাকলেও তাসকিনকে নিয়ে নির্বাচকদের পরিকল্পনা ভিন্ন। তাকে পরিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য ওয়ার্কলোড কমানোর চিন্তা করছে নির্বাচকরা।

একই সঙ্গে সব ফরম্যাটে টানা খেলিয়ে তাসকিনকে নষ্ট করতে চায় না টিম ম্যানেজমেন্টও। ইতিমধ্যে তাকে বলেও দেওয়া হয়েছে, টেস্ট এবং ওয়ানডের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে। অবশ্য টি-২০ একেবারেই খেলানো হবে না এমনটা নয়। তাসকিন নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, প্রধান নির্বাচক নান্নু স্যার (মিনহাজুল আবেদীন নান্নু) শ্রীলঙ্কা সফরের দুই টেস্টের পর আমার সঙ্গে কথা বলেছেন।

এটা এমন নয় যে আমি টি-২০ খেলব না। তারা শুধু চাচ্ছেন আমি যেন টেস্ট ও ওয়ানডেতে বেশি মনোযোগ দেই।’ সাকিবও তিন ফরম্যাটের চুক্তিতে থাকছেন, যার ফলে ভবিষ্যতে দেশের হয়ে তার খেলা নিয়ে সংশয় কার্যত উবে যাচ্ছে। কারণ বিসিবির নির্দেশনা অনুযায়ী চুক্তিতে থাকলে দেশের হয়ে খেলাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে ক্রিকেটারদের।

জানা গেছে, গত বছরের মতো এবারও বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে লাল বলের ক্রিকেটে ঠাঁই হচ্ছে না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুস্তাফিজুর রহমানের। তারা সাদা বলের চুক্তিতেই থাকছেন। ব্যাট হাতে ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না লিটন দাসের, তারপরও তিন ফরম্যাটের চুক্তিতে রাখা হচ্ছে এ উইকেটকিপার কাম ব্যাটসম্যানকে।

গত বছর করোনার কারণে খুব বেশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয়নি বাংলাদেশের। বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেছিলেন, চলতি বছরে কয়েকটি সিরিজ খেলার পর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা ঘোষণা করা হবে। টানা তিনটি সিরিজ খেলা হয়ে গেছে টাইগারদের, বছরের প্রায় অর্ধেক চলে গেছে। এখন আশা করা হচ্ছে দ্রুত বোর্ড সভায় অনুমোদন পাবে ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা।