ব্যাটিং বিপর্যয়ের ম্যাচে বার্নসের সেঞ্চুরি

স্রোতের বিপরীতে লড়াই করেছেন রয় বার্নস। ইংল্যান্ডের এই ওপেনার ইনিংসের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন। তার আগে ২৪তম টেস্টে তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭৮ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে টিম সাউদির গতির মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড।

ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যতিক্রম ছিলেন রয় বার্নস। উইকেটের একপ্রান্ত আগলে রেখে অনবদ্য ব্যাটিং করেন তিনি। তার একার লড়াইয়ে শেষপর্যন্ত ২৭৫ রান তুলতে সক্ষম হয় ইংল্যান্ড। রান তাড়া করতে নেমেই কাইল জেমিসনের গতির মুখে পড়ে দলীয় ৪ রানে ফেরেন ওপেনার ডম সিবলি। ১৪ রানের ব্যবধানে টিম সাউদির প্রথম শিকারে পরিণত হন জ্যাক ক্রয়েলি।

১৮ রানে ২ উইকেট পতনের পর জো বার্নের সঙ্গে জুটি বেঁধে হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক জো রুট। ১১৩ বলে ৪২ রান করা রুটকে দ্বিতীয় শিকারে পরিণত করেন জেমিসন। এরপর ইংলিশ শিবিরে রীতিমতো তাণ্ডব চালান টিম সাউদি। শূন্যরানের ব্যবধানে ইংল্যান্ডের তিন তারকা ব্যাটসম্যান ওলি পপ, ডেন লরেন্স ও জেমস ব্রেসিকে সাজঘরে ফেরান সাউদি। ১৪০ রানে ইংল্যান্ড হারায় ৬ উইকেট।

সপ্তম উইকেটে ওলি রবসনকে সঙ্গে নিয়ে ৬৩ রানের জুটি গড়েন রয় বার্নস। ১০১ বলে ৪২ রান করে ফেরেন রবসন। এরপর রয় বার্নসে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি মার্ক উড ও স্টুয়াড ব্রড। শূন্যরানে ফেরেন উড। ১০ রান করে ব্রড যখন আউট হন তখন ৯১ রানে অপরাজিত রয় বার্নস।

সেই সময়ে তার সেঞ্চুরি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। তবে শেষ ব্যাটসম্যান জেমস অ্যান্ডারসন তাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন সঙ্গ দেয়ার। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলের স্কোর মোটাতাজা করতে মারমুখী ব্যাটিং করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তার আগে ১৬ চার ও এক ছক্কায় করেন ১৩২ রান। এছাড়া ৪২ রান করে করেন জো রুট ও রবসন।

এর আগে লর্ডসে অভিষেক টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির ইতিহাস গড়েন নিউজিল্যান্ডের তরুণ ওপেনার ডেভন কনওয়ে। তার ২২টি চার ও এক ছক্কায় গড়া ২০০ রানের ঝকঝকে ইনিংসে ভর করে ৩৭৮ রান করে সফরকারী নিউজিল্যান্ড।
এছাড়া দলের হয়ে ৬১ রান করেন হেনরি নিকোলস। দুই অঙ্কের ফিগার রান করতে পারেননি পাঁচজন ব্যাটনম্যান। ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক হওয়া ২৭ বছর বয়সী পেসার ওলি রবসন শিকার করেন ৭৫ রানে ৪ উইকেট। ৮১ রানে ৩ উইকেট নেন মার্ক উড।