ইউএনও’র ওপর হা’মলা’য় জড়িত অফিস চত্বরের কেউ!

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তি’যো’দ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হা’মলা’য় জড়িত একজনই। তিনি ইউএনওর অফিস চত্বরের কেউ!

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, হা’মলা’র ঘটনা তদন্তের প্রায় দ্বারপ্রান্তে। হা’মলা’কারী একজনই, তবে তার একজন সহযোগী থাকতে পারে। সহযোগীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এর আগে গত সোমবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আ’টক করা তিনজনের মধ্যে দুজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

নাম না প্রকাশের শর্তে ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, ঘটনা তদন্তে পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নসহ (র‌্যাব) কয়েকটি সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। হা’ম’লা’কারী ইউএনওর অফিস চত্বরের কেউ। ঘটনায় ব্যবহৃত হা’তু’ড়ি, ম’ই, লা’ঠি জ’ব্দ করার কথাও তিনি জানান।পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, হা’ম’লা’কারী’কে শনাক্ত করা গেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে হা’ম’লার প্রকৃত কারণ ও অ’প’রা’ধীকে সামনে নিয়ে আসা হবে।

এর আগে গত বুধবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুপুরে মোত্তালিব হোসেন (৩৮) নামের এক নির্মাণশ্রমিককে (রাজমিস্ত্রি) জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে ওই রাজমিস্ত্রিসহ আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়ার কথাও জানান এক পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রয়েছেন নির্মাণশ্রমিক হুমায়ুন, মোত্তালিব, লাল মিয়া ও শাহীন হোসেন।

গত মঙ্গলবার আটক করা তিনজন হলেন- ইউএনওর ওপর হা’মলা’র ঘটনায় হওয়া মা’ম’লা’র এজাহারভুক্ত প্রধান আ’সা’মি আসাদুল ইসলামের বড় ভাই আশরাফুল ইসলাম, ইউএনওর গাড়িচালক ইয়াসিন আলী (২৮) ও ইউএনওর বাসভবনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী অরসোলা হেমব্রম (৩৬)। এর মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আশরাফুল ইসলাম এবং অরসোলা হেমব্রেমকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলামকে প্রত্যা’হার করা হয়েছে।জানা গেছে, শুক্রবারের মধ্যেই তাকে ঘোড়াঘাট থানা থেকে প্রত্যা’হার করে দিনাজপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হচ্ছে। রংপুর সদর থানার পরিদর্শক আজিম উদ্দিনকে ঘোড়াঘাট থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জের (ওসি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) ওয়াহিদা খানমের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. জাহেদ হোসেন বলেন, ওয়াহিদা খানম তার প্যারালাইজড হয়ে যাওয়া ডান হাতের আঙুল নাড়াতে শুরু করেছেন। এটা তার শারীরিক অবস্থার অনেক বড় উন্নতি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। তিনি অনেকখানি ইমপ্রুভ করেছেন।

ডা. জাহেদ হোসেন বলেন, তিনি আগের চেয়ে আরেকটু ভালো আছেন। বলা যায় অনেকখানি ইমপ্রুভ করেছেন। ডান হাতের আঙুলগুলো নাড়াচ্ছেন, যদিও এখনও পুরো হাত নয়। তার মানে আমরা বলতে পারি, হাতের আঙুল নাড়াচ্ছেন মানে ইমপ্রুভমেন্ট আসছে। আগে যে হাত প্যারালাইজড ছিল, তিনি সেই ডান হাতের আঙুল নাড়াচ্ছেন-এটা একটা গ্রেট নিউজ। তাই আমরা আরেকটু আশাবাদী হচ্ছি। কারণ তার ডান হাতে শক্তি আসতে শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে হা’ম’লা করে দু’র্বৃ’ত্ত’রা। ভারী ও ধা’রা’লো অ’স্ত্র দিয়ে কু’পি’য়ে এবং আ’ঘা’ত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গু’রু’তর আ’হ’ত করে তারা। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তি’যো’দ্ধা ওমর আলী শেখকে (৭০) জ’খ’ম করে দু’র্বৃ’ত্ত’রা। পরে তারা অ’চেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হা’ম’লা’কা’রীরা পা’লি’য়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুরে ও পরে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় আনা হয়। বর্তমান তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে ইউএনও ওয়াহিদার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বে তার অ’স্ত্রো’প’চার সম্পন্ন হয়।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*