ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে ৬ পদক্ষেপ

ট্রেন দুর্ঘটনায় ৫ কারণ বিবেচনায় নিয়ে দুর্ঘটনা রোধে ৬ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেছেন রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। রবিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।

রেলপথ মন্ত্রীর দেওয়া ট্রেন দুর্ঘটনার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- রেলপথ, রোলিং স্টক, সিগনালিং লেভেল ক্রসিং সংশ্লিষ্ট ক্রুটি, জনবল সংকটের কারণে ট্র্যাক, কোচ, ব্রিজ ইত্যাদি মেইনটেইন্যান্সের অভাব, অবৈধ লেভেল ক্রসিং গেট দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত সড়কযান পারাপার, সচেতনতার অভাব, বাংলাদেশ রেলওয়েতে ইঞ্জিন বিকলতা, ট্রেন থেকে যাত্রী পড়ে যাওয়া বা লাফ দেওয়া, রেল লাইন ভেঙে যাওয়া, টেলিফোন ব্যবস্থার বিশেষ ক্ষতি হওয়া,

পয়েন্ট ফেটে যাওয়া, ট্রেন পাটিং, লাইন চ্যুতি, রেলগাড়ি সংক্রান্ত হিংসাত্মক কার্যকলাপ, সড়কযানসহ লেভেল ক্রসিংয়ে কোনো বাধার ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাওয়া, গরু-বাছুর জাতীয় প্রাণীর ওপর দিয়ে ট্রেন চলে যাওয়া, বেশি বন্যার কারণে ট্রেন চলাচল বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ইত্যাদি।

এ সময় ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন মন্ত্রী। তার দেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- আগামী দুই বছরের মধ্যে রেল সংক্রান্ত দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সমন্বিত ও কার্যক্রম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে; ট্রেন ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজেশন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে; রেলট্র্যাক, রোলিংস্টক, ট্রেন অপারেশন, সিগনালিং সিস্টেম প্রভৃতি উন্নয়নে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এ লক্ষ্যে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে।

এছাড়া ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে দায়িত্বে থাকা কর্মচারীদের আরও সচেতনভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য বিভিন্ন মোটিভেশনাল কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে; রেলপথের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ওয়ার্কশপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।