অভিষেকই ৭ উইকেট, দ্বিতীয় ম্যাচে থেকে নিষিদ্ধ ইংলিশ ক্রিকেটার

ক্রিকেটের মক্কা খ্যাত লর্ডসে টেস্ট অভিষেক। নিজের প্রথম ম্যাচেই বল হাতে ৭ উইকেটের পাশাপাশি দলকে উদ্ধার করা ৪২ রান- ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট খেলতে নামা একজন খেলোয়াড়ের জন্য উদ্ভাসিত পারফরম্যান্সই বটে। কিন্তু এই পারফরম্যান্স করেও উচ্ছ্বাসের সুযোগ নেই ইংল্যান্ডের পেসার ওলি রবিনসনের।

কেননা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলা হবে না ২৭ বছর বয়সী এ পেসারের। প্রায় আট বছর আগে করা মুসলিম ও নারী বিদ্বেষী টুইটের কারণে রবিনসনকে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড। যার ফলে পরের ম্যাচটি খেলা হবে না তার।

রোববার (৬ জুন) নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটি পঞ্চম দিনে এসে ড্র হয়েছে। ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেই নিষিদ্ধ হলেন এই পেস অলরাউন্ডার। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট তুলেছিলেন ওলি। ব্যাট হাতে ৪২ মূল্যবান রানের ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট তুলে নিজের সক্ষমতার জানান দেন তিনি।

প্রথম শ্রেণীর ৬৪ ম্যাচে ২৮৬ উইকেট ও ১ হাজার ৭০৯ রান রয়েছে তার নামের সঙ্গে। সম্প্রতি কাউন্টি চ্যাম্পিয়ন শিপে ব্যাটে বলে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে জায়গা করে নিয়েছিলেন জাতীয় দলে। তাহলে কেন এই প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে এক ম্যাচ খেলিয়েই নিষিদ্ধ করলো ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)?

আট বছর আগে করা বর্ণবাদ এবং লিঙ্গ বৈষম্যমূলক টুইটের কারণে নিষিদ্ধ করা হলো ওলিকে। আগামী ১০ জুন থেকে কিউইদের বিরুদ্ধে শুরু হতে চলা দ্বিতীয় ম্যাচে দলের সঙ্গে তার নাম থাকছে না। গেল বুধবার (২ জুন) নিউজিল্যান্ডের ইংল্যান্ডের জার্সিতে মাঠে নামেন ওলি। বল গড়ানোর আগে দুই ক্রিকেটাররা বর্ণবৈষম্যের প্রতিবাদে ‘মোমেন্ট অব ইউনিটি’ ক্যাম্পেইনে অংশ নেন।

এর পর ২০১২ ও ২০১৩ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওলির করা একাধিক বৈষম্যমূলক পোস্ট ভাইরাল হয়। টুইটারে করা ওই পোস্টগুলো নিয়ে সাংবাদিকরা ম্যাচের প্রথম দিনই জানতে চান। সে সময় ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন ওলি।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘যা হয়েছে তা নিয়ে আমি লজ্জিত। স্পষ্ট করে দিতে চাই আমি বর্ণবাদ ও যৌনতাবাদের বিপক্ষে।’

এতেও হয়নি সমাধান। ২৭ বছর বয়সী ওলি বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ইসিবি। লর্ডস টেস্টের শেষ দিনেই বোর্ডের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তদন্ত চলাকালীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ থাকবেন তিনি।বর্তমান অধিনায়ক জো রুট থেকে সাবেক দলনেতা মাইকেল ভন পর্যন্ত কেউই ওলির পাশে দাঁড়াননি। তাদের কথা, এমন আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেয়া যায় না।