উত্তরখান ও দক্ষিণখানের ভাঙাচোরা সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে

রাজধানীর উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার ভাঙাচোরা সড়ক মানুষের চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় যে কয়টি ইউনিয়ন নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে।

তার মধ্যে উত্তরখান, দক্ষিণখান নিয়ে গঠিত ৮টি ওয়ার্ডের কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই নতুন ওয়ার্ডগুলোর রাস্তা দিয়ে চলতে গেলে সাধারণ মানুষ জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আঙ্গুল তুলে কথা বলে।

সড়কগুলো দিয়ে চলতে গেলে মনে হয় এগুলো সিটি করপোরেশনের রাস্তা নয়। সড়কগুলো যেন মরণফাঁদ, মানুষ মরার গ্যারাকল। জনগণের পথচলার কষ্টের কাহিনী কে শুনবে যিনি লঙ্কায় যান তিনি রাবণ হন।

উত্তরখান ও দক্ষিণখান ঢাকা ১৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত হলেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি এখানে। অথচ আওয়ামী লীগের সাবেক বর্ষীয়ান নেতা বাংলাদেশের প্রথম মহিলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন দীর্ঘদিন যাবত এ এলাকার এমপি ছিলেন। তিনি এলাকায় কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন করেননি। বর্তমানে এ আসনের এমপি হাবিব হাসানের হাত ধরে এলাকার উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে বলে জনগণ তার দিকে তাকিয়ে আছে।

ঢাকা ১৮ আসনের নতুন ওয়ার্ড গুলোর রাস্তাঘাট খানাখন্দকে ভরা। অসুস্থ রোগীকে এ রাস্তা দিয়ে নিয়ে গেলে রোগী মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে যায়। গর্ভবতী মায়েরা এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে সীমাহীন বিড়ম্বনার শিকার হয়। এরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। সামান্য বৃষ্টিতে এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো উন্নয়ন না করার পানি দীর্ঘক্ষণ জমে থাকে। এই নতুন ওয়ার্ডগুলোর অধিকাংশ রাস্তা মানুষ ও যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, রাস্তাগুলো বিভিন্ন জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়েছে, কোথাও কাঁচা রাস্তায় ইটের সলিং ভেঙ্গে বিরাট বিরাট গর্তে পরিণত হয়েছে।

এই সমস্যাগুলোর মধ্যেই প্রতিদিন পথ চলতে হচ্ছে উত্তরখান ও দক্ষিণখান এলাকার ৮টি ওয়ার্ডের লাখ লাখ সাধারণ জনগণের। পুলিশ ফাঁড়ি থেকে জয়নাল মার্কেট। গনকবরস্থান থেকে চৈতি গার্মেন্টস এর সড়ক, দক্ষিণখানের হলার অটো স্ট্যান্ড থেকে উত্তরা টেম্পো স্ট্যান্ড, হলার অটো স্ট্যান্ড থেকে আশকোনা প্রাইমারি স্কুল, উচ্চারটেক মেডিকেল রোড,

দক্ষিণখান থেকে কসাইবাড়ি রোড, পণ্ডিত পাড়া থেকে শোনার খোলা সিটি কমপ্লেক্স রোড, দক্ষিণখান থেকে মাজার রোড, উত্তরখান চাঁনপাড়া থেকে মাস্টারপাড় রোড, মাস্টারপাড়া হতে শাহী মসজিদ, চামুরখান থেকে মাজার রোড, দোবাইদা থেকে সাইনবোর্ড, আটপাড়া থেকে রাজাবাড়ী, কাচকুরা বাজার থেকে বাওথা পর্যন্ত সড়কগুলোর একেবারেই বেহাল দশা। এছাড়া আভ্যন্তরীণ চলাচলের রাস্তাগুলোর আরও খারাপ অবস্থা।

এই রাস্তা গুলোতে পায়ে হেটে চলাচলের অনুপযোগী। এলাকার একাধিক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের এই ইউনিয়ন দুটি সিটি করপোরেশনের আওতায় নেওয়ার পর আমাদের নিয়মিত ট্যাক্স বৃদ্ধি পেয়েছে, আমরা সেগুলো পরিশোধ করছি কিন্তু আমাদের কোনো সুযোগ-সুবিধা আমরা পাচ্ছি না।

ফায়দাবাদ এলাকায় বসবাসকারী মোহাম্মদ কবির যুগান্তরকে বলেন, আমার প্রতিদিন ঢাকায় যেতে হয়। এ এলাকার সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় কোমর পানি হওয়ায় আমাদের চলাচলে অত্যধিক কষ্ট হয়। এলাকা রাস্তাঘাটগুলো উন্নয়নের দিকে সরকারের নজর দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

কাঁচা বাজার এলাকায় বসবাসকারী একাধিক মুরুব্বী যুগান্তরকে বলেন, বাবা কত নেতা আসে যায় আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। ভোটের আগে কত কথা বলে কত স্বপ্ন আশা ও ভালবাসার কথা বলে পরে কেউ কোনো খোঁজ-খবর নেয় না। রাস্তার উন্নয়নের অভিযোগ করে কোন লাভ নাই ক্ষমতা তাদের হাতে, ইচ্ছাও তাদের হাতে আমি সারাদিন চিৎকার করলেও কোনো উপকার হবে না।

তারা বলেন, নেতাদের প্রতিশ্রুতি জাদুঘরে বন্দি থাকে আমাদের রাস্তার উন্নয়ন হয় না। এলাকাগুলোতে বাস চলাচলের উপযোগী কোনো রাস্তা না থাকায় বিশাল জনগোষ্ঠীর চলাচলের একমাত্র ভরসা অটোরিকশা। দৈনিক কয়েক হাজার অটোরিকশা এ সব রাস্তা দিয়ে চলাচল করে এবং রাস্তাগুলো ভাঙ্গাচুরা থাকায় নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

দায়িত্ব নিয়ে এলাকার অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি এলাকার কাউন্সিলররা। অকপটে স্বীকার করে বলেন এলাকার উন্নয়নে কোনো বাজেট পাননি। সিটি করপোরেশন বলছে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে মহা পরিকল্পনা আছে। এবছরই শুরু হবে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা বলেন, ১৮টি ওয়ার্ডকে আমরা সত্যিকার অর্থেই মেইন স্টিমিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে উন্নয়ন করতে চাই। এই কাজটি গুরুত্বপূর্ণ বিধায় এখানে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজটি বাস্তবায়ন হবে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ইউনিয়নগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ।

তবে মহা পরিকল্পনার আওতায় সড়কের আয়তন নির্ধারণ, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ, পয়ঃনিস্কাশন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ শুরু হলে এলাকার বাসিন্দারা সুফল পাবেন বলে জানান উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী।