ইসরাইল মানববিদ্বেষী রাষ্ট্রঃ উ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়া বলেছে ‘ইসরাইল একটা মানববিদ্বেষী রাষ্ট্র। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে। গণহত্যা চালাচ্ছে। শিশুদের টার্গেট করছে।’ । গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসন ও বিরামহীন বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির যুদ্ধবাজ নেতাদের এক নিয়েছেন এশিয়ার এই নিভৃত ও বিচ্ছিন্ন দেশটির সরকার।

রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরাইলের একটি চরম মানববিদ্বেষী রূপ রয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে ভূখণ্ড বিস্তারের চরম উচ্চাভিলাস। দেশটি রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত এবং অন্য জাতি ও দেশগুলোর ওপর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।’

পূর্ব জেরুজালেমের শেখ জাররাহ এলাকায় নতুন করে দখলদারির জেরে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে চলতি মাসের শুরুর দিকে (১০ মে) ‘অপারেশন গার্ডিয়ান অব দ্য ওয়ালস’ নামে (অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজা উপত্যকায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল।

বিরামহীন বিমান হামলার সঙ্গে সঙ্গে চালায় স্থল অভিযান। টানা ১১ দিনের আগ্রাসনে অন্তত ৬৬ শিশু ও ৩৯ নারীসহ ২৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন। আহত হন আরও এক হাজার ৯৪৮ গাজাবাসী। শত শত ঘরবাড়ি ও অফিস ধ্বংস হয়েছে।

এই প্রথম নয়, গত প্রায় একশ’ বছর ধরেই মাঝে মাঝেই এমন ফিলিস্তিনে এমন তাণ্ডব ও হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। উত্তর কোরিয়া বলেছে, ‘পুরো গাজা উপত্যকা কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। সেখানে শিশুদের গণহত্যা করা হচ্ছে।’ এসব কর্মকাণ্ড ইসরাইলের মানবতাবিরোধী অপরাধ বলেও অভিহিত করেছে পিয়ংইয়ং।

উত্তর কোরিয়ায় সম্প্রতি নতুন একটি আইন পাশ হয়েছে, যার উদ্দেশ্য যে কোনো ধরনের বিদেশি প্রভাব প্রতিহত করা। এই আইনে বলা হয়েছে-কেউ যদি ভিনদেশি সিনেমা দেখে, ভিনদেশি পোশাক পরে, এমনকি গালিও দেয়, তবে তাকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার নাটকসহ ধরা পড়া এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড স্বচক্ষে দেখেছিলেন ইয়ুন মি-সো। তখন তার বয়েস মোটে এগারো। তার সব প্রতিবেশীকেই বাধ্য করা হয়েছিল এই দৃশ্য দেখতে।

‘আপনি না দেখলে তা হতো রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’, বলেন ইয়ুন মি-সো। তিনি এখন সোলের বাসিন্দা। অবৈধ ভিডিও চোরাচালান করার শাস্তি যে মৃত্যুদণ্ড সেটা যেন সবার জানা থাকে, উত্তর কোরিয়ার প্রহরীরা তা নিশ্চিত করতে চাইছিল। তার ভাষায়, ‘আমার স্পষ্ট মনে আছে, লোকটির চোখ বাঁধা ছিল। আমি এখনো কল্পনায় দেখি, তার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে। খুব যন্ত্রণাদায়ক একটা স্মৃতি।

যে কাপড় দিয়ে লোকটির চোখ বাঁধা হয়েছিল, সেটি চোখের পানিতে ভিজে গিয়েছিল।’ কিম জং-আন নতুন এক আইন দিয়ে আরও চেপে ধরতে চাইছেন, যে আইনটি ‘প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা’ রুখে দেওয়ার জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে বলে বর্ণনা করা হচ্ছে উত্তর কোরিয়ায়।

সূত্রঃ বিবিসি।