সিলেটের সব ভবনের ঝুঁকি মূল্যায়নে জরিপ হবে

ভূমিকম্প আতঙ্কে রয়েছেন সিলেটের বাসিন্দারা। বিশেষ করে অপরিকল্পিত ও পুরোনো স্থাপনা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই সিটি করপোরেশনের। ৯ দিনের মাথায় গত সোমবার সন্ধ্যায় আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। ভূমিকম্পে নগরীর রাজা জিসি হাইস্কুলের একটি ভবন ফেটে গেছে।

এ অবস্থায় ভূমিকম্পের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নগরীর সব ভবনের ঝুঁকি মূল্যায়ন জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, চলতি সপ্তাহে ঝুঁকি মূল্যায়ন জরিপের কার্যক্রম শুরু হবে। গত ২৯ মে থেকে কয়েক দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় সিটি করপোরেশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যা-লয়ের (শাবিপ্রবি) পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং (সিইই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ জরিপ করা হবে। বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, আশা করছি, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে জরিপের কার্যক্রম শেষ করা যাবে।

নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মার্কেট পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য আজ বুধবার শাবিপ্রবিতে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বৈঠকে নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন দ্রুত পরীক্ষা করার বিষয়ে আলোচনা হবে। রাজা জিসি স্কুল ভবনের ফাটল সম্পর্কে মেয়র বলেন, ভবনটি ভেঙে ফেলার কোনো বিকল্প নেই। বিমে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সূত্র মতে, সিলেট নগরীতে বর্তমানে দেড় লাখ বাসাবাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা মাত্র ৫২ হাজার। বাকি বাড়িগুলো অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়। অবশ্য, বর্তমানে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন ছাড়া নগরীতে কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের চিফ ইঞ্জিনিয়ার নূর আজিজুর রহমান।

অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, এ অঞ্চলে দায়িত্বরত বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলীরা সিলেট নগরীর সব ভবন মূল্যায়ন করার পাশাপাশি বিল্ডিং কোড ছাড়া নগরীতে কোনো ভবন নির্মাণের অনুমতি না দিতে সিটি করপোরেশনকে পরামর্শ দিয়েছেন। সিটি করপোরেশনও প্রস্তাবে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

এদিকে, নগরীর ২৪টি ভবনকে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল সিটি করপোরেশন। এছাড়া ৪০টি ভবনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করে প্রাথমিকভাবে মানসম্পন্ন পাওয়া গেছে। এসব ভবন উপযুক্ত কি না, তা যাচাইয়ের জন্য রিপোর্ট জাপানে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট নগর উন্নয়ন কমিটির টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম। ঐ রিপোর্টের ফলাফল এখানো জাপান থেকে আসেনি।

গত সোমবারের ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল দক্ষিণ সুরমা। রিকটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৮। গত কয়েক দিনের মধ্যে কয়েক বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় প্রবাসে বসবাসরতরা সিলেটে তাদের স্বজনদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। নগরীতে বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ ২৪টি ভবনের মধ্যে বন্দরবাজারের সিলেট সিটি সুপার মার্কেটের তিন তলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি দোকান ভাঙা হয়েছে।

এছাড়া, শাবিপ্রবি হতে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে নগরীর পুরান লেনের ৪/এ কিবরিয়া লজ মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া, বন্দরবাজার মধুবন মার্কেটের চতুর্থ তলায়ও রেট্রোফিটিং করা হয়। অধ্যাপক ড. জহির জানান, ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় থাকা আরো কয়েকটি ভবনকে রেট্রোফিটিং করা গেলে ঝুঁকি কিছুটা কমানো যাবে।

জেলা শিক্ষা ভবনের নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল হাকিমের নেতৃত্বে একটি দল রাজা জিসি হাইস্কুল পরিদর্শন করেছে। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, যে ভবনটিতে ফাটল ধরেছে সেটি প্রায় ২৮ বছর আগের। ভূমিকম্প সহনীয় মাত্রায় এটি তৈরি করা হয়নি। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ১৮৮৬ সালে রাজা জিসি হাইস্কুল স্থাপিত হয়েছিল।

গত ২৯ মে পরপর চার বার, ৩০ মে এক বার ও ৭ জুন সন্ধ্যায় পরপর দুবারসহ মোট সাত দফা ভূমিকম্প হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত—ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস।