ক’নডেম সে’ল থেকে ফোনে ৫ মিনিট কথা বলেছে আয়েশা!

বরগুনার আ’লোচিত শাহনেওয়াজ রিফাত (রিফাত শরীফ) হ’ত্যা মা’মলায় মিন্নিসহ ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্ত ৬ আ’সামিকে বরগুনা জে’লা কা’রাগারের ক’নডেম সে’লে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে কা’রাগার থেকে ফোনে পাঁচ মিনিট কথা বলেছেন মিন্নি।

এর আগে বরগুনার আ’লোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার দশ আ’সামির মধ্যে ৬ জনকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড ও ৪ জনকে খালাস দিয়ে রা’য় ঘো’ষণা ক’রে বরগুনার আ’দালত। এই মা’মলার প্রধান সা’ক্ষী ছিলেন রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। পরে তাকে সা’ক্ষী থেকে আ’সামি করা হয়।

এরপর রায়ে তারও মৃ’ত্যুদ’ণ্ড ঘো’ষণা ক’রেছেন আ’দালত। ১০ আ’সামির মধ্যে মুসা প’লাতক রয়েছেন। রা’য় ঘো’ষণার পর মিন্নিকে গ্রে’প্তার দেখিয়েছে পু’লিশ। বর্তমানে পু’লিশ হে’ফাজতে রয়েছেন তিনি। মুসা ছাড়া বাকিরা রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ডে জ’ড়িত থাকার কথা স্বী’কার ক’রে আ’দালতে স্বী’কারোক্তিমূ’লক জ’বানব’ন্দি দিয়েছিলেন।

বরগুনা জে’লা কা’রাগারের ক’নডেম সে’লে রিফাত হ’ত্যার ছয় আ’সামি ছাড়া অন্য কোনো ব’ন্দিই নেই বলে জানিয়েছেন বরগুনা জে’লা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জে’ল সুপার) মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বরগুনার কা’রাগারে না’রী ব’ন্দীদের মধ্যে মিন্নিই নির্জন ক’নডেম সে’লে আছেন।

মিন্নি ব্যতীত বরগুনার কা’রাগারের ক’নডেম সে’লে অন্য কোনো নারী ব’ন্দী নেই। এছাড়া রিফাত হ’ত্যা মা’মলার অপর পাঁচজন পু’রুষ আ’সামিকেও ক’নডেম সে’লে রাখা হয়েছে। এই পাঁচ পুরুষ ব’ন্দী ব্যতীত বরগুনার কা’রাগারের ক’নডেম সে’লে আর অন্য কোনো পুরুষ ব’ন্দীও নেই বলে উল্লেখ করেন জে’ল সুপার।

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মিন্নিকে রাখা হয়েছে নারী ওয়ার্ডের ক’নডেম সেলে। আর পুরুষ ব’ন্দীরা আছেন পুরুষ ওয়ার্ডের ক’নডেম সে’লে।’ তারা ক’নডেম সে’লে মা’নসিকভাবে বি’পর্যস্ত হয়ে পড়েছেন জানিয়ে এই জে’ল সুপার আরও বলেন, কা’রাবিধি অনুযায়ী ছয় ব’ন্দীকেই ক’নডেম সে’লে থালা, বাটি ও কম্বল দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও প্রতি আ’সামিকে কারাগারের পক্ষ থেকে দুই সে’ট পোশাক দেয়া হয়েছে। এ পোশাক তারা পরিধান করবেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কা’রাগারে ৪৯ জন না’রী ফাঁ’সির দ’ণ্ড মা’থায় নিয়ে ক’নডেম সে’লের বাসিন্দা। ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তদের থাকার এই সে’লের সর্বশে’ষ বাসি’ন্দা হয়েছেন বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

তিনি বলেন, ‘মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত আ’সামিদের কা’রাগারের যে বিশেষ কক্ষে রাখা হয় সেটাকে ক’নডেম সে’ল বলা হয়। ক’নডেম সে’লের ব’ন্দিরা কখনো সে’ল থেকে বাহিরে বের হতে পারেন না। এসব ব’ন্দিরা মা’সে একবার তার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। এছাড়াও সপ্তাহে একবার তারা ফোনে তাদের স্বজনদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কথা বলতে পারেন। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে মিন্নি তার মা-বাবার সঙ্গে ফোনে পাঁচ মিনিট কথা বলেছেন।’

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে শত শত লোকের ভি’ড়ে রিফাত শরীফকে (২৫) কু’পি’য়ে হ’ত্যা ক’রা হয়। ঘ’টনার পরদিন ১২ জনের নাম উল্লেখ ক’রে অ’জ্ঞাত আরও ৫-৬ জনের বি’রুদ্ধে হ’ত্যা মা’মলা ক’রেন নিহ’ত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ।

ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তব’য়স্ক ও অ’প্রাপ্তব’য়স্ক দুভাগে বি’ভক্ত ক’রে ২৪ জনের বি’রুদ্ধে আ’দালতে ত’দন্ত প্রতিবেদন দেয় পু’লিশ। এতে প্রাপ্তব’য়স্ক ১০ জন এবং অ’প্রাপ্তব’য়স্ক ১৪ জনকে অ’ভিযুক্ত করা হয়। রিফাতের স্ত্রী হিসেবে এই মা’মলায় প্রধান সা’ক্ষী ছিলেন আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

পরে তাকে সাত নম্বর আ’সামি ক’রে ২৪ জনের বি’রুদ্ধে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বি’চারিক আ’দালতে চা’র্জশিট (অ’ভিযোগপত্র) দাখিল ক’রে পু’লিশ। মা’মলার প্রধান ও প্রত্যক্ষ সা’ক্ষী মিন্নিকে আ’সামি করার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে, তার কিছুটা জানা গেছে পু’লিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মক’র্তার মাধ্যমে।

জে’লা পু’লিশের এই কর্মক’র্তা জানান, মিন্নিকে রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলায় অ’ভিযুক্ত করার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। যার মধ্যে প্রথমত মিন্নি তার স্বামী রিফাত হ’ত্যার ঘ’টনায় স’ম্পৃক্ততার কথা স্বী’কার ক’রে আ’দালতে জ’বানব’ন্দি দিয়েছেন। তাছাড়া মা’মলায় এজাহারভু’ক্ত দুই নম্বর আ’সামি রিফাত ফরাজী, তার ভাই তিন নম্বর আ’সামি রিশান ফরাজী, ছয় নম্বর আ’সামি রাব্বি আকন এবং ১২ নম্বর আ’সামি টিকটক হৃদয় আ’দালতে দেয়া স্বী’কারোক্তিমূলক জ’বানব’ন্দিতে মিন্নির স’ম্পৃক্ততার কথা স্বী’কার ক’রেছেন।

তিনি আরও জানান, রিফাত হ’ত্যায় নয়ন বন্ডের সঙ্গে পরিক’ল্পনায় ছিলেন মিন্নি। ২৬ জুন ঘ’টনার দুই দিন আগে রিফাত শরীফ হেলাল নামে তার এক বন্ধুর মোবাইল ফোন ছি’নিয়ে নেন। হেলাল রিফাত শরীফের বন্ধু হলেও নয়ন বন্ডের খুব ঘনিষ্ঠ। তাই ছি’নিয়ে নেয়া মোবাইল ফোন উ’দ্ধারের জন্য নয়ন বন্ড দ্বা’রস্থ হয় মিন্নির।

নয়ন বন্ডের অ’নুরোধে হ’ত্যাকা’ণ্ডের দুই দিন আগে রাতে সেই ফোন রিফাত শরীফের কাছ থেকে উ’দ্ধার ক’রেন মিন্নি। কিন্তু এ ফোন উ’দ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মা’রধ’রের শি’কার হন তিনি। পরে হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগের দিন নয়নের সঙ্গে দেখা ক’রে মিন্নি সেই ফোন তার হা’তে তুলে দেন।

এ সময় মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফের হাতে যে মা’রধ’রের শি’কার হয়েছেন তার প্রতিশো’ধ নিতে বলেন নয়নকে। এরপর ওইদিন বিকেলে বরগুনা কলেজ মাঠের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নয়ন বন্ড ও তার বা’হিনীর সঙ্গে রিফাত শরীফকে মা’রধ’রের বিষয়ে সভা ক’রেন মিন্নি। এছাড়া রিফাত শরীফ হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগে এবং পরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির একাধিকবার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে।

ওই পুলিশ কর্মক’র্তা জানান, হা’মলার আগ মুহূর্তে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নি কলেজ থেকে বের হলেও পরিক’ল্পনা অনুযায়ী কলেজের সামনে তাকে মা’রধ’রের কোনো প্রস্তুতি দেখতে না পেয়ে সময়ক্ষে’পণ ক’রেন। এর জন্য মিন্নি রিফাত শরীফের বা’ধা উপে’ক্ষা ক’রে আবার কলেজে প্রবেশ ক’রেন।

এর কিছুক্ষ’ণ পরই নয়ন বন্ড বা’হিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য একত্রিত হয়ে রিফাত শরীফকে আ’টক ক’রে মা’রধ’র করতে করতে কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। পরিক’ল্পনা অনুযায়ী রিফাতকে মা’রধ’র করা হচ্ছে দেখে স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন মিন্নি।