শুরু হচ্ছে অপারেশন ছাত্রলীগ

তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে কোন সময় ছাত্রলীগের অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে বড় ধরণের অপারেশন এই অপারেশনের মুল লক্ষ্য হল ছাত্রলীগকে পরিশুদ্ধ করা এবং ছাত্রলীগের ভেতরে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা। ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং ছাত্রলীগের আদর্শিক নেতা শেখ হাসিনার নির্দেশেই এই অপারেশন ছাত্রলীগ শুরু হচ্ছে, বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেছেন, ফরিদপুরে যেভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অপারেশন পরিচালনা করেছিল, যারা চিহ্নিত অপরাধী আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে যারা বিভিন্ন অপকর্ম করেছিল, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

ঠিক একইভাবে ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে যারা একইভাবে টে’ণ্ডারবা’জি, চাঁ’দাবা’জি, নারী নি’র্যাত’ন মা’দক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে ইতোমধ্যে এই তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানিয়েছেন, পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে সারা দেশে ছাত্রলীগে শুদ্ধি অভিযান পরিচালিত হবে।

ওই অপারেশনে যারা বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সারা দেশে ছাত্রলীগের কারা কারা অপকর্মে জড়িত করছে তাদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ওই নেতা জানিয়েছেন, হাতে গোনা কিছু নেতা-কর্মীর অপকর্মের জন্য পুরো ছাত্রলীগ হচ্ছে। ছাত্রলীগ জনগণের কাছে সমালোচিত হচ্ছে। ব্যক্তির অপরাধের দায় সংগঠন নিতে পারে না। তিনি এটিও বলেছেন, সারা দেশে যারা ছাত্রলীগের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করছেন এরকম একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

এ তালিকাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর নাম পাওয়া গেছে। যারা ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এই চিহ্নিত ব্যক্তিদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, ‘কোন রকম ছাড় যেন না দেয়া হয়’। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই যেন দেখা হয়। তার যেন কোন রকম দলীয় পরিচয় খোঁজা না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে এমসি কলেজের ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগকে নিয়ে বিভিন্ন রকম আলোচনা শুরু হয়েছিল। ছাত্রলীগের ভেতরে যে অনেক বিএনপি জামাতের অনুপ্রবেশকারী ঢুকে গেছে। তারা দলের ভেতর ঢুকে বিভিন্ন রকম অপকর্ম করছে; এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের গত কমিটি নিজে করেছিলেন। কিন্তু ওই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর তাদের দুইজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এখন ছাত্রলীগে নতুন কমিটি করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নয়, বরং দেখা গেছে যে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছাত্রলীগে জামাত-শিবির এবং অপকর্মকারীরা ঢুকে গেছে। এমসি কলেজে যে ঘটনা ঘটেছে, এ ঘটনায় যারা জড়িত তারা কেউই ছাত্রলীগের নেতা নন। বরং তারা দুর্বৃত্ত। ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে এ ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে।

এ কারণে আওয়ামী লীগ সারা দেশে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ সদস্য তালিকা তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলছেন, ছাত্রলীগের কর্মী বললেই হবে না। কে ছাত্রলীগের কর্মী তার একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সারা দেশে ছাত্রলীগের কত কর্মী আছে, তাদের সুনিদিষ্ট তালিকা যেন থাকে।

এতে করে সুবিধা হবে যেই অপ’কর্ম করুক; তাকে খুঁজে বের করা যেমন সহজ হবে। পাশাপাশি যে কেউ ছাত্রলীগের পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করতে পারবে না। ছাত্রলীগের একজন শীর্ষ নেতা স্বীকার করেছেন যে, ছাত্রলীগে ঢোকার ক্ষেত্রে এখন কোন ধরনের বিধি-নিষেধ নেই। বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বঘোষিত ভাবে ছাত্রলীগের কর্মী হয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে; গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে তেরশোর কাছাকাছি ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয়ধারী অপকর্মকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযান ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। খুব শীঘ্রই সেগুলো দৃশ্যমান হবে। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।