‘মামুন তো ফিরে আসছে, আমার গর্ভের নষ্ট হওয়া সন্তান কী ফিরে আসবে?’

মিথ্যা মা’মলা আর ভুল ত’দন্তে আমি কোনও অ’পরাধ না করেও দেড় বছর কারা’ভোগ করেছি। এখন কে ফিরিয়ে দিবে আমা’র সেই দিনগু’লো? আমা’র গ’র্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়েছে কেউ কী পারবে সেই ক্ষ’তিপূরণ দিতে?

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে আ’দালত পাড়ায় গার্মেন্টসকর্মী তাসলিমা কেঁদে কেঁদে আকুতি করছিলেন আর এসব কথা বলছিলেন।

তাসলিমা’র মা বলেন, আমা’দের বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। মামুন আর আমাগো বাড়ি পাশাপাশি। মামুন হারায়া যাওনের দুই বছর আগে মাইয়ারে ফোনে বির’ক্ত করতো। তখন ওরা দুজনেই ছোট ছিল। তাসলিমা’র তখন ১৪-১৫ বছর হইব। আমর’া না করে দিসি যাতে ওরে বির’ক্ত না করে। যদি বিয়া করতে চায় তাইলে আলাদা হিসাব।

কিন্তু এরপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ নাই আমা’র মাইয়ার সাথে। মা’মলার পাঁচ মাস আগে আমা’র মাইয়ার বিয়া হয়। একদিন এলাকা দিয়া মাইয়া আর মাইয়ার জামাই যাইতাসিলো তখন আবুল কালাম, কালামের মাইয়া,

কালামের বউ মিল্লা তাসলিমা আর ওর জামাইরে ইচ্ছামত মা’রলো। মা’রার সময় কইলো আমা’র মাইয়া নাকি মামুনরে মাইরা ফেলছে। ওই সময় তাসলিমা’র পেটে বাচ্চা। মাইরের চোটে মাইয়ার বাচ্চাও নষ্ট হইয়া গেছে তখন।

মামুনের বাপে পিটানের কয়েকদিন পর মতলব থানায় যায় আমাগো নামে মা’মলা করতে। কিন্তু পুলিশ মা’মলা নেয় নাই। দুই মাস পরে হেরা ফতুল্লা থানায় আইসা মা’মলা করছে। সেই মতলব থেইক্কা আমর’া আইসা আইসা হাজিরা দিতাম। আমা’র মাইয়ারে রি’মান্ডে নিয়ে ইচ্ছামতো মা’রছে।

মাইয়া হাঁটতে পারতো না। এক বছরের বেশি সময় এই মা’মলায় জেল খাটছে। এই বিচার এখন কে করবো? ওর বাচ্চা ফিরায়া দিতে পারবো? এই ছয় বছরের অশান্তি ফিরায়া দিতে পারবো?

প্রস’ঙ্গত, মামুন ২০১৪ সালে নিখোঁজ হলেও দুই বছর পর ফতুল্লা মডেল থানায় মামুনের বাবা আবুল কালাম অ’পহরণের মা’মলা করেন।

তিনি মা’মলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তাসলিমা’র স’ঙ্গে তার ছেলে মামুনের প্রেম ছিল। তাসলিমা’র ভাই তা মেনে নেয়নি। তারা মামুনকে অ’পহরণ করে আট’কে রাখে।

এ মা’মলার ত’দন্ত কর্মক’র্তা এসআই মিজান এক আ’সামির রি’মান্ড শেষে আ’দালতে জবাব’ন্দি রেকর্ড করা আবেদনে একজন সাক্ষীর বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন, ত’দন্তকালে জানা গেছে আ’সামিরা ভিকটিমকে শ্বা’সরোধ করে হ’ত্যা করে মর’দে’হ নদীতে ফেলে দেয়।

বুধবার আ’সামিদের জামিনের আবেদনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আইনজীবী। ওই দিন পুলিশের মৃ’ত সেই মামুন আ’দালতপাড়ায় জীবিত হাজির হলে বি’ষ্মিত হয় বিবাদীপক্ষ আর আইনজীবী। এর মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জে জন্ম নেয় আরেকটি জিসামনিকাণ্ড।