ভিত্তিহীন অভিযোগে আমাকে ব্লেম দেয়া হচ্ছে : পরীমনি

ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনিকে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টার ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনার মাঝেই গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাব ভাঙচুরের অভিযোগ এনেছেন এই নায়িকার বিরুদ্ধে। তবে এই অভিযোগকে বোট ক্লাবের ঘটনাকে আড়াল ও হালকা করার চক্রান্ত বলেই মনে করছেন পরীমনি।

বুধবার রাতে অল কমিউনিটি ক্লাব কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলনের পর রাত ১০টায় বনানীতে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পরীমনি। ভাঙচুরের অভিযোগে বিস্ময় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরোটাই ভিত্তিহীন। আমাকে নানাদিক থেকে ব্লেম দেওয়া হচ্ছে। যেটা আসলে ভিত্তিহীন। চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ৮ তারিখের ঘটনা যদি হয়ে থাকে তাহলে কোনো না কোনোভাবে মিডিয়ার কাছে অবশ্যই পৌঁছাত। আপনারা সবাই বিষয়টি বুঝতে পারছেন। একদিন পর হোক বা দুদিন সত্যটা আসবেই সবার সামনে।’

গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগকে ‘চক্রান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে নায়িকা পরীমনি বলেন, ‘আমাকে মানসিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। কিন্তু আমার আগেই মানসিক প্রস্তুতি ছিল। চারদিন ধরে সবাই আমাকে বলছিল তোমাকে ব্লেম দেওয়া হতে পারে। তোমার দিকে আঙুল তোলা হবে।’

কান্না জড়ানো কণ্ঠে পরীমনি বলেন, ‘আমি যদি ভাঙচুর করে থাকি, তাহলে তারা এতদিন কেন চুপ করে ছিল? এতদিন পর আমি যখন কমপ্লেইন করলাম, বিষয়টা সবার সামনে আনলাম। আমার সঙ্গে করা অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালাম, তখনই কেন তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে। এটা যে চক্রান্ত, স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।’

ওই ক্লাবে যাওয়ার কথা সাংবাদিকরা পরীমনির কাছে জানতে চাইলে তিনি তা স্বীকার করে বলেন, ‌‌‌‘জ্বী আমি গিয়েছি। আর সিসিটিভিতে কী আছে, তা তো আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন। এখানে ভাঙচুরের কোনো কিছুই তো নেই।এটা ফালতু অভিযোগ। আমার বিরুদ্ধে কোনো জিডি হয়নি। আমাকে নিয়ে অন্যরকম একটা চক্রান্ত চলছে।’ এ সময় সাংবাদিকদের কাছেই সত্য সন্ধান ও তার পাশে থাকতে অনুরোধ জানান পরীমনি।

এর আগে সন্ধ্যায় পরীমনির বিরুদ্ধে অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কে এম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে ভাঙচুরের অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, গত ৭ জুন গভীর রাতে ৯৯৯-এ একটি কলে গুলশান থানা-পুলিশের একটি দল অল কমিউনিটি ক্লাবে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কথা-কাটাকাটির জেরে ক্লাবে গ্লাস ভাঙচুর করেন পরীমনি।

ঢাকার বোট ক্লাবের অপ্রীতিকর ঘটনা সামনে আলোচনা তৈরি করেন পরীমনি। এ ঘটনায় আবাসন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ, অমিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন এই চিত্রনায়িকা। মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।