কবিরাজি করাতে গিয়ে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের সঙ্গে প্রেম, অতঃপর…

কবিরাজির সূত্র ধরে প্রেম এবং বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন এক নারী। মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান নামে এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তিনি এ অভিযোগ করেন। পরে ময়মনসিংহের ভালুকায় উথুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বাচ্চু ওই অধ্যক্ষের সঙ্গে নারীর জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠে।

এতে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও করে জুতা মিছিলের মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চেয়ারম্যানসহ ওই নারীকে উদ্ধার করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাতিবেড় গ্রামের স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়া এক নারী ধলিকুড়ি গ্রামের উলুমুল কোরআন আদর্শ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ১নং উথুরা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই নারী ও সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সালিশে বসেন। চেয়ারম্যান সালিশে ওই শিক্ষককে নারীর পক্ষ নিয়ে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন; তবে সিদ্দিকুর রহমান বিয়েতে রাজি হননি।

দীর্ঘ ৮ ঘণ্টায় কোনো সমাধান না হওয়ায় ওই নারী ও চেয়ারম্যানের প্রতি স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ইউপি কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং জুতা মিছিল করেন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্লোগানের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাৎক্ষণিক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। রাতেই ওই নারী বাদী হয়ে সিদ্দিকুর রহমানের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পুলিশ রাতেই মাদ্রাসা থেকে সিদ্দিকুর রহমানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সিদ্দিকুর জেলার ফুলপুর উপজেলার পূর্ব বাকাইল গ্রামের রুহুল আমীনের ছেলে। তিনি উপজেলার ধলিকুড়ি গ্রামের উলুমুল কোরআন আদর্শ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান শিক্ষকতার পাশাপাশি কবিরাজি চিকিৎসা করেন। কবিরাজির সূত্র ধরে ওই নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর থেকে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের দুজনের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন হয়।

সম্প্রতি ওই নারী সিদ্দিকুরকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু তিনি বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ভিকটিম চেয়ারম্যানের কাছে মৌখিক অভিযোগ দেন। উথুরা ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান বলেন, ওই নারীর মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হুজুরকে মোবাইল ফোনে আমার কার্যালয়ে ডেকে এনে সমাধানের চেষ্টা করি।

এ সময় আমার প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে লোকজন স্লোগান দেন। পুলিশ আসার পর ওই নারীকে থানায় নিয়ে যায়। ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ওই নারী ধর্ষণের অভিযোগ দিয়ে থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।