বড় বাধার সম্মুখীন তারেক জিয়া !

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন প্রায় শেষ। তিনি আর রাজনীতিতে আগ্রহী নন এটি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। রাজনীতির চেয়ে তিনি এখন তার চিকিৎসা এবং বাকি সময় জেলের বাইরে থাকাটাই তার জন্য সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত বলে তিনি তার ঘনিষ্টদেরকে বলেছেন।

আর পরিবারের সদস্যরাও তাকে রাজনীতির বিষয়ে বিরক্ত না করার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের কাছে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।নেতা হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার দলের বাইরে এবং ভেতরে একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখা তো দলের বাইরেও অনেকেই।

কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার পরে সম্ভাব্য উত্তরসূরি তারেক জিয়াকে নিয়ে বিপুল পরিমাণ নেতিবাচক ধারণা রয়েছে।বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন যে, এটি নিয়ে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই যে, খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে বিদায় নিলে তারেকই হবেন বিএনপির পরবর্তী নেতা। তিনি এখনই অলিখিত ভাবে বিএনপি চালাচ্ছেন।

কিন্তু অলিখিত ভাবে বিএনপি চালানো আর আনুষ্ঠানিক ভাবে বিএনপির নেতৃত্বের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ভারপ্রাপ্ত হিসেবে তারেক জিয়া দল চালালেও, দলের ঘোষিত প্রধান নেতা হিসেবে তিনি কতটুক গ্রহণযোগ্য হবেন এবং তার নেতৃত্বে বিএনপি কতটুক ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে পারবে- সে নিয়ে সন্দেহ রয়েছে খোদ বিএনপিতেই।

এটা অস্বীকার করার কারো কারণ নাই। বিএনপিতে একটা সময় তৃণমুল পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিপুল পরিমাণ জনপ্রিয়তা ছিল।কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তার এই জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করছে। তবে শুধু দলেই নয় নেতৃত্বও আনুষ্ঠানিক নেতা হবার পথে তারেক জিয়ার পাঁচটি বাঁধা রয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

১। দলে গ্রহণযোগ্যতার অভাব বেগম খালেদা জিয়া যেমন দলের সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য ছিলেন। তারেকের ক্ষেত্রে তেমনটি নয়, বরং একটি গ্রুপ স্বার্থান্বেষী মহল টাকা-পয়সা আছে, এমন একটি অংশের কাছেই তারেক জিয়া গ্রহণযোগ্য এবং জনপ্রিয়।

তারেক জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা পুরো দলের মধ্যেই নেই। ২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বরের পর এই জনপ্রিয়তা আরো নিম্নগামী হয়েছে, বলে মনে করেন বিএনপির একাধিক নেতা। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, বিএনপির নেতা হতে গেলে তারেক জিয়াকে আগে দলের কাছে আস্থা ভাজন হতে হবে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মিদের কাছে শ্রদ্ধা এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে হবে। কিন্তু সেটা এখন পর্যন্ত তারেক জিয়া করতে পারেনি।

২। সাধারণ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সাধারণ জনগণের কাছে তারেক জিয়া সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। সাধারণ জনগণ মনে করে তারেক জিয়া দুর্নীতিবাজ, অসৎ। তিনি দুর্বৃত্তদের লালন-পালন করেন। তার বিরুদ্ধে কি মামলা বা কোন অপরাধে অপরাধি তিনি সেটির থেকেও সাধারণ মানুষের পারসেপশন হলো, তারেক জিয়া দুর্নীতিবাজ। এটি বিএনপির একক নেতা হিসেবে তারেক জিয়ার অন্যতম বাধা হিসেবে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৩। প্রশাসন ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠানের কাছে তারেক জিয়া গ্রহণযোগ্য নন একটি প্রধান দলের নেতাকে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হয়। কারণ আওয়ামী লীগ বা বিএনপির নেতা মানেই হলো ভবিষৎতের প্রধানমন্ত্রী বা সরকার প্রধান। কিন্তু প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপুর্ণ কিছু প্রতিষ্ঠানে তারেক জিয়া একজন চাঁদাবাজ, ধূর্ত প্রতারক হিসেবে চিহ্নিত। কাজেই বিএনপির নেতা হতে গেলে তারেক জিয়ার জন্য এটিই একটি অন্যতম বড় বাধা।

৪। ব্যবসায়ি মহলে নেতিবাচক ধারণা তারেক জিয়া সম্পর্কে ব্যবসায়ি মহলে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। বিশেষ করে ২০০১ এবং ২০০৬ সালে তারেক জিয়া যখন বিএনপির অলিখিত চেয়ারপারসন হিসেবে দল চালাতেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিতেন; তখন ব্যবসায়িদের কাছ থেকে দেদারসে তিনি টাকা-পয়সা নিয়েছেন।

টাকা-পয়সা নিয়েও যে কাজ করে দেবার কথা, সে কাজও তিনি করে দেননি। এ জন্য ব্যবসায়ীরা তারেকের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এই নেতিবাচক মনোভাব তারেক জিয়ার নেতা হতে বড় বাধা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৫। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব তারেক জিয়ার নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা মনে করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক পরি মণ্ডলে তার নেতিবাচক ধারণা। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেউ তারেককে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে মনে করেন না। বরং তাকে একজন গুণ্ডা এবং দুর্বৃত্ত হিসেবে মনে করেন।

ভারতের পক্ষ থেকে একাধিকবার বলে দেয়া হয়েছে যে, তারেক জিয়াকে নেতৃত্বে রেখে বিএনপির সঙ্গে কোন ধরণের সমঝোতা সম্ভব নয়। আর এই বাস্তবতাতেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা না হয়ে বিএনপির একক নেতা হিসেবে বিএনপিকে কতকটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন- সে প্রশ্ন অনেকের।