তৃণমূল কংগ্রেসে একসঙ্গে যোগ দিলেন বিজেপির ৩ শতাধিক কর্মী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসে একসঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিজেপির ৩ শতাধিক কর্মী। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছিল। এর কারণ বিজেপির টোপ। মমতার দুর্গ ভাঙতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘন ঘন সফর করেছেন এই রাজ্যে।

আত্মবিশ্বাসীও ছিলেন তারা। ঘোষণা দিয়েছিলেন দুই শতাধিক আসনে জিতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করবে বিজেপি। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। ভূমিধস জয় নিয়ে ক্ষমতায় ফেরে তৃণমূল আর বিজেপি ১০০ আসনও পেরোতে পারেনি। নির্বাচনে এমন পরাজয়ের পর বিজেপির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মুকুল রায় যোগ দেন তৃণমূলে।

আরও অনেক সংসদ সদস্য ও বিধায়ক তৃণমূল যোগ দিচ্ছে এমন আতঙ্ক রয়েছে গেরোয়া শিবিরে। এরই মাঝে বিজেপি ছেড়ে এবার ঘাসফুল শিবিরে ফেরার হিড়িক লেগেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের। খবরে বলা হয়, শুক্রবার বীরভূমের সাঁইথিয়ায় কমপক্ষে ৩০০ জন বিজেপি ছেড়ে যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

গঙ্গাজল ছিটিয়ে তাদের দলে ফেরালেন বনগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান। সকলকেই রীতিমতো গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করানো হয়। কেন্দ্রীয় শাসকদলে যোগ দিয়েও এলাকার উন্নয়ন করতে পারেননি বলে তারা লজ্জিত।
সাঁইথিয়া বিধানসভার অন্তর্গত বনগ্রাম অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসেন বিজেপি কর্মীরা। ‘ভুল করেছি’ লেখা প্ল্যাকার্ডও ছিল তাদের হাতে।

বনগ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গায়ে গঙ্গাজল ছেটানো হয়। তারপরই বিজেপি কর্মীদের হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তৃণমূলে যোগদানকারী বিজেপি কর্মী অশোক মণ্ডল বলেন, ‘‌আমরা এতদিন বিজেপি করলেও বনগ্রাম অঞ্চলের কোনও উন্নয়ন করতে পারিনি। উল্টে বিভিন্ন বিক্ষোভের জেরে আমাদের জন্যই এলাকার উন্নয়নে বাধা পেয়েছে। তাই আমরা দুঃখিত এবং লজ্জিত।’‌