‘আগেই বলেছিলাম, নুসরাত তোমাকে ঠকাবে’

বিভিন্ন বিষয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় আসা ভারতীয় বাংলা টেলিভিশন চরিত্র ও সংসদ সদস্য নুসরাত ও নিখিল জৈনের ব্যাপারে আলোচনা চলছেই। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষ নুসরাতের থেকে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে নিখিলের প্রতি। কমেন্টে কমেন্টে ভরে যাচ্ছে নিখিলের পোস্ট। কেউ কেউ বলছেন- আগেই বলেছিলাম, ওই মেয়ে তোমাকে ঠকাবে!

কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, নিখিলের প্রত্যেকটি ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ভর্তি হয়ে উঠছে প্রশংসাসূচক বাক্যে। এমনকি তাকে ‘হিরো’ও বলছেন কেউ কেউ। নিখিলের জীবন থেকে নাকি অনুপ্রাণিতও হচ্ছেন তারা। অনেকে নিখিলের পোস্টের কমেন্টে সমালোচনা করছেন নুসরাতের।

এই ক্ষোভ কখনও কখনো গিয়ে পড়ছে নারীবাদীদের ওপরও। বলা হচ্ছে, কোনো মহিলার সঙ্গে এ রকম হলে তো ছদ্ম নারীবাদীরা এখনই ঝাঁপিয়ে পড়তো। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, তারা এখন কোথায়? মানুষের এসব প্রতিক্রিয়ায় নিখিল খুশি। প্রায় সব পোস্টেই তিনি লাভ রিয়েক্ট দিচ্ছেন। এমনকি মাঝে মাঝে কৃতজ্ঞতাবোধক ইমোজিও রিপ্লাই করছেন তিনি।

বুধবার নিজের ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন নিখিল জৈন। ওই পোস্টেই এমনসব কমেন্টের ছড়াছড়ি দেখা যায়। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নুসরাত দাবি করছেন, তার নাকি বিয়েই হয়নি নিখিল জৈনের সঙ্গে। নিখিল তার স্বামী নয়, আইনত তাদের বিয়ে অবৈধ।

এর পর ১০ জুন একটি বিবৃতি দিয়েছেন নিখিল। বিবৃতিতে নিখিল জানিয়েছেন, বার বার বলা সত্ত্বেও বিয়ের নিবন্ধন করাতে রাজি হননি নুসরাত। সেইসঙ্গে বিবৃতিতে নিখিল দাবি করেন নুসরাত তার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম আজ তাকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,

বিবৃতিতে নিখিল লিখেছেন, ‘নুসরাতকে ভালোবেসে আমি বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলাম সেটা ও আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছিল। আমরা ২০১৯-এর জুন মাসে তুরস্কের বোদরুমে গিয়েছিলাম ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের জন্য। তারপর কলকাতায় ফিরে রিসেপশন পার্টি হয়। আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বাস করেছি, সমাজে পরিচিত হয়েছি।

স্বামী হিসাবে আমার দায়িত্ব এবং কর্তব্য নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। আমি নুসরাতের জন্য কী কী করেছি তা আমার পরিবার এবং বন্ধুরা জানেন। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে একটি সিনেমার শুটিংয়ের পর থেকে আমার প্রতি নুসরাতের ব্যবহার পাল্টে যায়। কী কারণে তা নুসরাতই ভালো বলতে পারবে।’

নিখিল আরও লেখেন, ‘আমি ওকে বহুবার বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করানোর জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু ও কিছুতে রাজি হয়নি। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর নিজের সমস্ত জিনিসপত্র এবং মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে আমার ফ্ল্যাট ছেড়ে নুসরাত চলে যায়। বালিগঞ্জে ওর নিজের ফ্ল্যাটে ওঠে। তার পর থেকে আমরা কখনও স্বামী-স্ত্রী হিসাবে এক সঙ্গে বসবাস করিনি। বাকি কিছু জিনিস এবং দরকারি কাজপত্র ইত্যাদি ছিল যা পরে ওর ফ্ল্যাটে পাঠানো হয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নুসরাতের নানা খবর দেখার পর অনুভব করি ও আমার সাথে চিট করেছে। বাধ্য হয়ে ২০২১ সালের ৮ মার্চ নুসরাতের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করি আলিপুর জজ কোর্টে। এটা এখন বিচারাধীন বিষয় তাই আমি কোনো মন্তব্য করতে চাইনি। তবে ওর জারি করা বিবৃতির পর বাধ্য কিছু ঘটনা জানালাম।’