চাঁদপুরে এক টাকায় জমিসহ বসতঘর পাচ্ছেন শতাধিক পরিবার

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কর্তৃক চাঁদপুরে দ্বিতীয় ধাপে ১০৯টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ নতুন বসতঘর দেওয়া হচ্ছে। মাত্র এক টাকার সালামিতে এসব পরিবারকে ওই বসতঘরের সঙ্গে দুই শতাংশ জমিও বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। আগামী রবিবার (২০ জুন) জমি ও বসতঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন খান মজলিশ।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার- দেশে একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই চাঁদপুর জেলাতেও যেন একজন মানুষও গৃহহীন না থাকে। সেজন্য আমরা কাজ করছি। ইতিমধ্যেই ১ হাজার ৬১৭টি ভূমি এবং গৃহহীন পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। খাস জমি উদ্ধার করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তাদেরকে নতুন বসতঘর দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, চাঁদপুর জেলার চারজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দুটি করে মোট আট উপজেলায় নিষ্কন্টক খাস জমি খুঁজে বের করাসহ এ সংক্রান্ত সব কাজ মনিটর করার জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে। কারণ,

এই বসতঘরগুলো গৃহহীন পরিবারের মাথার ওপরে একটি ছায়া হবে। যেন তারা রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কষ্ট না পায়। তাই মাত্র এক টাকার সালামিতে তাদেরকে বসতঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে জমি রেজিস্ট্রেশন সাপেক্ষে নামজারিও করে তা দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বসতঘরগুলো যাদেরকে দেওয়া হচ্ছে, তারা অন্য কারো কাছে হস্তান্তর করতে পারবে না।

এদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরী জানান, দ্বিতীয় পর্যায়ে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ১৭টি, কচুয়ায় ২টি, মতলব উত্তরে ৩০টি, হাজীগঞ্জে ১০টি, শাহরাস্তিতে ৩০টি এবং হাইমচরে ২০টি পরিবারকে এ ঘর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এসব ঘরের বেশির ভাগই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকা এসব বসতঘরে রয়েছে একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট ও ইউটিলিটি স্পেস।

এদিকে, বর্তমানে জেলায় ক শ্রেণির গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবার রয়েছে ১ হাজার ৬১৭টি। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ১১৫টি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৪৫টিসহ ১৬০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। ২য় পর্যায়ে একক গৃহের মাধ্যমে ১০৯টি এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৩২৫টিসহ ৪৩৪টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে।

খাস জমি উদ্ধার করে জেলায় আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ক শ্রেণির পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা জায়গা নির্বাচন, মাটি ভরাটসহ প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের বেতনের টাকায় চাঁদপুরে ২টি পরিবারকে, জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ২টি এবং বিভিন্ন ব্যক্তি,

প্রতিষ্ঠান প্রধান সংস্থার পক্ষ থেকে ২৫টি ঘর দেওয়া হয়েছে। এগুলোসহ বেসরকারিভাবে ১১৮টি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দাউদ হোসেন চৌধুরী,

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অসিম চন্দ্র বণিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) ইমতিয়াজ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশাসহ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিক।