মধুপুরের তিন ভিক্ষুক এখন শান্তির নীড়ে

অনেকটা নির্ভার হয়ে এখন মরেও শান্তির প্রত্যাশায় বৃদ্ধা সহিতন বেগম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ঘর পেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে এমন প্রত্যাশা তার। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মির্জাবাড়ী ইউনিয়নের ব্রাহ্মণবাড়ীর আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ২০টি ঘরের মধ্যে একটি দড়িহাতিলের ভিক্ষুক সহিতনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে। এজন্য তিনি জীবনের এ প্রান্তিকে অনেকটা উচ্ছ্বসিত। দোয়াও করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জন্য।

১৯৮৮ সালে স্বামী জয়েন উদ্দিনের মৃত্যুর পর দুই মেয়ে নিয়ে অকূলে পড়ে ভিক্ষাকে জীবিকার একমাত্র পথ হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। টানা ৩০ বছর ধরে ভিক্ষা করে দুই মেয়ে ও নিজের খাওয়া চালাতেন। ভিক্ষায় জমানো অর্থ জমিয়ে স্থানীয় খাসজমিতে একটা দুইচালা ঘরে মাথা গোঁজার ঠাই করেছিলেন। মেয়েদের বিয়ে দিতে জমানো টাকা ও ঘর বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

তারপর থেকে অনেকটা আশ্রয়হীন ছিলেন। এখন আর আশ্রয়ের দুর্ভাবনা নেই। রোববার সারা দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর নির্মিত ঘর উদ্বোধন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে জমিসহ একটি ঘরের মালিকানা পাবেন সহিতন। শুধু সহিতন নয়, ২০টি ঘরের আরও দুটি পেয়েছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী বালী বেগম নামের আরেক ভিক্ষুক।

স্বামী হারিয়ে তিনি সন্তানদের নিয়ে জীবন জীবিকার কোনো পথ না পেয়ে ভিক্ষার পথ বেছে নেন। ভূমি-গৃহ কোনটিই না থাকায় তার জন্য বরাদ্দ হয়েছে আশ্রয়ণে ভূমি-গৃহ দুটোই। বাদ যাননি শারীরিকভাবে অচল ভিক্ষুক বাদশা মিয়াও। খাসজমিতে গড়া একটি টিনের ছাপড়ায় মাসহ ৬ জনকে নিয়ে একঘরে মানবেতর জীবনযাপন ছিল তার।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে জমি ও ঘর পেয়ে পরিবারটি অনেক খুশি। এখন তারা শান্তির নীড়ের বাসিন্দা। রোদে পুড়ে ভিক্ষা আর বৃষ্টিতে ভেজা নির্ঘুম রাতের ভয় কেটে গেল তাদের। এ আশ্রয়ণ কেন্দ্রে তাদের ছাড়াও ৫ বিধবা, ১ প্রতিবন্ধীসহ ১৭টি ভূমিহীন আশ্রয়হীন পরিবার ঘর পাচ্ছে। তারা সবাই রোববার জমির কাগজপত্রসহ ঘর বুঝে পাবেন।

উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় মোট ২০০টি ভূমিহীন ও আশ্রয়হীন পরিবার ঘর পেতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রস্তুত হওয়া ২০টি ঘর বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। এসব তথ্য নিশ্চেত করেছেন মধুপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমীন।