আত্মগোপনে থাকা সেই বাড়িতে যেভাবে দিন কাটাতেন ত্ব-হা

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পশ্চিম পেয়ারাপুর গ্রামে সাত দিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন আলোচিত ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান। সেই বাড়িটি তার বন্ধু সিয়াম ইবনে শরীফের বাড়ি।
একটি প্রাইভেটকারে গত ১১ জুন শুক্রবার দুপুরে ত্ব-হা আদনান তার তিনজন বন্ধুকে নিয়ে তাদের বাড়িতে ওঠেন। সিয়ামের বাবা শরিফ নেওয়াজ খান এক বছর আগে মারা গেছেন।

সিয়াম চাকরি সূত্রে থাকেন রংপুরে। তার একমাত্র বোন স্বামীর সঙ্গে থাকেন ঢাকায়। বাড়িটিতে তার মা নিশাদ নাহার একাই থাকতেন। বাড়িটি নির্জন ও নিরিবিড়ি। আশপাশ থেকে অন্য বাড়িগুলো একটু দূরে। এ কারণে আশপাশের কেউ জানত না। তবে এই সাত দিন ত্ব-হা ও তার সঙ্গীরা কেউ বাড়ির বাইরে বের হতেন না। তারা ঘরের ভেতরেই নামাজ পড়তেন।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সিয়ামের মা নিশাদ নাহার। তিনি বলেন, ত্ব-হা ও তার সঙ্গীরা সাতদিন এই বাড়িতে থাকলেও আশপাশের কেউ জানত না। সিয়ামের মা নিশাত নাহার বলেন, যে প্রাইভেটকার ১১ জুন আদনানদের নামিয়ে দিয়েছিল তার বাড়িতে, ১৮ জুন সকালে সেই গাড়িটি এসে তাদের নিয়ে যায়।

নিশাদ নাহার বলেন, ‘ত্ব-হা এখানে এসে বলে, আমাকে দু’জন লোক ফলো করছে, আমরা এখানে কিছুদিন থাকব। রংপুরে এসএসসি পর্যন্ত একসঙ্গে পড়ার কারণে আমার ছেলের সঙ্গে তার পরিচয়। এসএসসি পাশের পর তারা দু’জন দুই কলেজে পড়লেও একসঙ্গে চলাফেরা করত। তারপর ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন দু’জন একসঙ্গেই চলত।

এদিকে আমরা গাইবান্ধায় চলে আসি। এখানে আসার পর আমার ছেলের চাকরি হয়। চাকরি সূত্রে সে এখন রংপুরে থাকে। আর ত্ব-হা আমার বাসায় এর আগে অনেকবার এসেছে।’ চারদিকে তাদের নিয়ে তোলপাড়, তারপরও আপনারা কেন জানেননি, এমন প্রশ্নের জবাবে নিশাদ নাহার বলেন,

আসলে এটা আমি ঠিকভাবে জানতে পারিনি কারণ আমার বাসার টিভিটা নষ্ট। আর আত্মীয়স্বজনরা আমাকে ফোনে বলেছে ওতো নিখোঁজ। তারাও বলেছে না জানাতে। আমার ছেলেরও নিষেধ ছিল। কিন্তু পরে আমি ত্ব-হাকে বলেছি, যেহেতু মিডিয়ায় তোমাদের নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে, তোমরা কিন্তু এবার যেতে পার। তারপর তারা চলে গেছে।

গত ১০ জুন দিবাগত রাত থেকে কোনো খোঁজ মিলছিল না আবু ত্বহা, তার দুই সঙ্গী আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির উদ্দিনের। সেদিন বিকাল ৪টার দিকে ওই তিনজনসহ আবু ত্ব-হা রংপুর থেকে ভাড়া করা একটি গাড়িতে ঢাকার পথে রওনা দেন। রাতে মোবাইল ফোনে সর্বশেষ কথা হলে তিনি সাভারে যাচ্ছেন বলে তার মাকে জানান।

জানা গেছে, আদনানের বিভিন্ন ইসলামিক অনুষ্ঠান ও মাহফিলে তারা একসঙ্গেই থাকতেন। এই তিনজনের সঙ্গে ত্ব-হা’র সখ্যতা ছিল।এরপর রাত ২টা ৩৬ মিনিটে প্রথম স্ত্রী হাবিবা নূরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয় আদনানের। তিনি সাভার যাচ্ছেন বলেই জানান স্ত্রীকে। তারপর থেকেই তার ফোন বন্ধ থাকায় আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

রংপুরের আলোচিত বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান শুক্রবার দুপুরে তার শ্বশুরের বাসায় আসেন। পরে সেখান থেকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর পুলিশ।