মিথ্যা অপবাদ আর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছি: রাব্বানী

ইসলামি বক্তা হিসেবে পরিচিত আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান নিখোঁজের ৮দিন পরে অবশেষে বাড়িতে ফিরেছে এসেছেন। নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই। উক্ত ঘটনা নিয়ে চড়াও হয়ে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রাব্বানী নিজ ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন।

আবারও আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানকে খুঁজে পাওয়ায় পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন গোলাম রাব্বানীর। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরা হলো- ”আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানসহ চারজন মানুষ সহসা নিখোঁজ হবার পর,

স্বভাবতই তাদের দ্রুত খুঁজে বের করতে উদাত্ত আহবান জানিয়েছিলাম প্রশাসনের প্রতি। কারণ, এরা যতদিন নিখোঁজ থাকতো, আমাদের দলই ক্ষতিগ্রস্ত হতো, এমনেস্টিয়াসহ বহির্বিশ্বে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতো। এমনিতেই ‘যা কিছু হারায়, গিন্নী বলেন, কেষ্টা বেটাও চোর’ মানে দিনশেষে সব দোষ সরকারের! তাই,

আদনান ইস্যুতে নানা মহল থেকে অপপ্রচার-গুজবের ডালপালা মেলতে থাকায়, তাদের খুঁজে বের করা জরুরী ছিলো। দেশরত্ন শেখ হাসিনার আদর্শিক কর্মী হিসেবে অন্তঃপ্রাণ বিশ্বাস করি, আমার নেত্রী কখনোই গুম-খুনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হবার পর আওয়ামী লীগ সরকারকেই দোষারোপ করা হয়েছিলো,

কিন্তু সত্য কখনো গোপন থাকেনা। বিএনপির একজন সিনিয়র নেতার সৌজন্যে দেশবাসী জেনে গেছে, ইলিয়াস আলীকে বিএনপির একাংশই গুম করেছে। তদ্রুপ আবু ত্ব-হার বিষয়েও প্রমাণিত হলো, তিনি নিজেই তার অন্য স্ত্রীর কাছে আত্মগোপনে ছিলেন। ত্ব-হা গুম হয়নি, এ খবরে যেমন অপ্রচার-গুজব বন্ধ হলো, তেমনি আমরাও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি, সরকার দায়মুক্ত হয়েছে হয়েছে বলে।

অতি পরিতাপের বিষয়, ত্ব-হার সন্ধান চেয়ে স্ট্যাটাস দেয়াতে কিছু অতি সেকুলার লীগার এমনভাবে সমালোচনা শুরু করলেন, যেন আমার আদর্শ নিয়েই টান পরে গেছে! আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে কতটা ধারণ করি, আমার নেত্রীকে, আওয়ামীলীগকে কতটা ভালোবাসি, সেটা কথায় নয়, কর্মে ও আচরণে বহুবার প্রমাণ করেছি।

আমি গোলাম রাব্বানী, মিথ্যা অপবাদ আর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েও প্রাণপ্রিয় নেত্রীর মনে কষ্ট দিয়ে পদে থাকতে চাইনি বলেই ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেছি। বুকভরা কষ্ট-অভিমান চেপে রেখে এই দুর্যোগকালীন সময়ে দেশজুড়ে ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভালোবাসার উপহার’ নিয়ে সাধ্যের পুরোটা দিয়েই অসহায় মানুষের পাশে থেকেছি।

আমরা ঘরে বসে থেকে স্রেফ কী-বোর্ডে শেখ হাসিনার শুভাকাঙ্ক্ষী না। যে রাজপথ থেকে তিলে তিলে উঠে এসেছি, শেখ হাসিনার কর্মী পরিচয়েই সে রাজপথে আছি, তাঁর পক্ষ থেকে বাংলার দুঃখী-মেহনতী মানুষের পাশে আছি, আর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত থাকবো ইনশাআল্লাহ। যেখানে থাকি, যেভাবেই থাকি কখনও চাইবো না, কোন ঠুনকো ইস্যুতে দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার বিব্রত হোক, বিশ্ব দরবারে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হোক।”