তোদের নিজেদের বোনদের সঙ্গে হলে কি করতি?

নিজ বাসায় একসাথে থেকে ছোট ভাই যখন পটেনশিয়াল ধ’র্ষক অথবা মা’দকাসক্ত হয়ে যায়, নিজে বড় ভাই, বোন হিসেবে তার খবর না রাখলেও কেষ্ট ব্যাটা কেন তাদের ঘরের ভেতরের খবর জানলো না তা নিয়ে সব দোষ সেই কেষ্ট ব্যাটারই!

পরিবার, নৈতিকতার শিক্ষা এসব আবার কি জিনিস? এসব তো সব কেষ্ট ব্যাটার জন্যই শেখাতে পারছি না আম’রা, তাই না! এরকম দ্বিচারিতা যাদের চরিত্রে এদের জন্য লজ্জাও অনুভূত হয় না আজকাল!

কোভিড পজিটিভ হওয়ার পরে ডাক্তারের কাছ থেকে টেলিমেডিসিন সেবা নিয়েছি, সমস্যা জানিয়েছি, ডাক্তারের নির্দেশিত পথে চলে পরে আবার নেগেটিভ হয়েছি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় আমি আমা’র সমস্যা তুলে ধরেছি, ডাক্তাররা সমাধান দেয়ার চেষ্টা করেছেন। আমি কিছু না বললে, আমা’র ডাক্তার বন্ধুরা দরবেশের মত সব জেনে গিয়ে সমাধান দিতে পারতেন কিনা, সেটা নিয়ে মনে বড্ড প্রশ্ন জাগে!

ঘরে বসে কত নারী কতভাবে নির্যাতিত হয় তার ততটাই আম’রা জানি যতটা অ’ভিযোগ তারা করেন! বউ পে’টানো স্বামী এই দেশে তো আর কম নেই! এসকল ফেরেশতাদের ভালো কাজ আম’রা তখনই জানতে পারি যখন ভিকটিম নিজে অথবা পরিবারের কেউ অথবা প্রতিবেশি কেউ তথ্য দিয়ে জানান!

এছাড়া অন্য কোনো দৈব বাণী আমাদের কাছে আসে’না মহাশয়, আপনার কাছে আসলে জানাবেন প্লিজ! বিশেষ অ’প’রাধের অ’প’রাধী ধরবার জন্য কখনো কখনো সোর্স থাকে, কিন্তু ঘরে ঘরে সাধুরূপী ভণ্ডদের জন্য সোর্স নেই! তাহলে পুরো বাংলাদেশের কোনো না কোনো অংশকে বিবেচনায় এনে সোর্স নিয়োগ করতে হবে। নিয়োগটাও দিয়ে ফেলেন না হয়! পচন সর্বত্র হলেও দোষ শুধুই কেষ্ট ব্যাটার! নিজেরটা হলেও দোষ, অন্যেরটা হলেও দোষ, নিজেরটা নাহলেও দোষ, কেউ চুপ থাকলেও দোষ, শুধুমাত্র বাকি সুপুরুষগণ নন্দঘোষ!

পৌরুষের এতো জৌলুষ যে পুরো গ্রাম থেকে একজনও কথা বলেনি, কিচ্ছু জানায়নি! হায়রে পুরুষত্বরে আমা’র! আরে তোদের নিজের ঘরে বোন নেই! ওদের সঙ্গে কিছু হলে কি করতি? মুখ বন্ধ রাখতি? অন্যায় সহ্য করলে তা নিজের কাঁধেও যে বর্তায় এই সভ্যতার কথা তোরে কেউ কইবে না! কারণ তুই যে নপুংসকের মত চুপ মে’রে আছিস তা নিয়ে বললে, কেষ্ট ব্যাটার দোষ একটু কম হয়ে যাবে! জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ য়ে গড়ে ১৫-১৮ হাজার কল আসে প্রতিদিন! বিনামূল্যে কল করে একটা তথ্য দিয়ে দিলে কেষ্ট ব্যাটার উপকার হয়ে যাবে, তাই কল করা যাবে না! কারণ তোর হিসেব মতে কেষ্ট ব্যটাতো পীর, আউলিয়া! সে তাই গায়েবী আওয়াজে সব জেনে যাবে!

কেষ্ট ব্যাটার কাছে কেউ নাকি যেতেই চায় না, তো ভালো কথা বছরে হাজারে হাজারে মা’মলা কোথায় হয়? কারা করে? জ্বিন আর পরীরা? কেষ্ট ব্যাটার সব খা’রাপ মানলাম তো বিকল্প সুযোগও তো ছিল! আবার বলে জনবান্ধব হতে পারছে না কেন কেষ্ট? এই জনবান্ধবেই তো সমস্যা হয়ে যায় মহাশয়, কারণ এই বান্ধবের ভেতরেই তো খু’নী, ধ’র্ষক, ডা’কাত, চো’র, ধাপ্পাবাজ, মা’মলাবাজ, ইতর, বদমাশ সব লুকায় থাকে! সেটা না চাহিয়া বরং পেশাদার চান! পেশাদার চাহিলে ভাই, চাচার জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে হবে! যারা চাচ্ছেন তাঁরাও বের হয়ে আসেন! আর কোনটা কার কাজ সেটাও দয়া করে জানিয়া, বুঝিয়া তারপর ব্লেইম দিতে আসুন!

নিজ পরিবারে পচন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন, পারিবারিক শিক্ষায় পচন, নৈতিকতার অবক্ষয় যেখানে স্বাভাবিক ঘটনা সেখানে সব দায় কেষ্ট ব্যাটার উপর চাপিয়ে আরামের নিদ্রা টানুন! দরকার হলে কেষ্ট ব্যাটাকে বলবেন, লজ্জা ছেড়ে কেষ্ট আপনার জন্য ঠিকই দাঁড়িয়ে যাবে! জ্বি ঠিক ভেবেছেন কেষ্টর কাজই এটি! আপনার কাজ কি জনাব? জানা আছে?

ভালো থাকুন এই চোখ থাকিতে অন্ধ মানুষের দেশে আমি ভালো থাকতে চাই না! আমি আরামের নিদ্রাও চাই না! আমি বর্বর, পাষণ্ডদের জন্য কঠিন আইনের প্রনয়ণ এবং তার প্রয়োগটুকুই চাইতে পারি! নাহ আমি সেই ভোল পাল্টানো বা রং পাল্টানো সুশীলও নই যে, মুহূর্তে ক্রসফায়ারের বিরোধিতা করে আবার ক্রসফায়ার চাহিয়া গলা ফাটাতে থাকবে এবং তারপর আবারও ভোল পাল্টে ক্রসফায়ারের বিরোধিতা করবে!

সকলের সুস্থতা কামনায়- সমাজে ভণ্ডের চাপে নিষ্পেষিত এক সাধারণ মানব!

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: এডিসি মিডিয়া অ্যান্ড পিআর