সড়কপথের বিকল্প খুঁজে নিয়েছেন উত্তরবঙ্গের মানুষও

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে বাস ও রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দক্ষিণবঙ্গের মতো উত্তরবঙ্গের মানুষও ব্যবহার করছেন নৌরুট। পাবনাসহ উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকামুখী ও ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলমুখী ফিরতি মানুষ আরিচা-নগরবাড়ি (কাজীরহাট) নৌপথ ব্যবহার করছেন। এতে কাজীরহাট ফেরিগুলোতে বেড়েছে যাত্রীদের ভিড়।

ফেরিতে ওঠার সময় স্বাস্থ্যবিধি মানা দূরের কথা ধাক্কাধাক্কি করে টিকিট কেটে ফেরিতে আগে ওঠার প্রতিযোগিতা চলছে। কাজীরহাট ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা ও তার আশপাশের জেলায় কর্মরত মানুষ ফেরির আশায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় রয়েছেন। ফেরি আসার পর হুড়োহুড়ি করে মানুষ ফেরিতে উঠতে থাকেন। এর আগে তারা প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে টিকিট কেটে রাখেন।

পাবনা জেলা মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবুল আহসান খান জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা দেশে ঢাকার সঙ্গে বাস চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ফলে বুধবার থেকে আর কোনো দূরপাল্লার গাড়ি চলছে না। তাই সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা থেকে বা ঢাকামুখী কোনো দূরপাল্লার গাড়ি চলছে না।

পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল জানান, বাস মালিক সমিতির নেতাদের বিধিনিষেধের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকারি নিষেধের পরও যারা ঢাকা রুটে বাস-কোচ চালু রাখবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে ঢাকার সঙ্গে ঈশ্বরদীর রেল যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন পাকশী রেল বিভাগের পুলিশ সুপার মো. শাহাব উদ্দিন।

এ অবস্থায় চাকরিজীবী, শ্রমিকসহ ও বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ ঢাকায় গিয়ে আটকা পড়েন আবার কেউ কর্মস্থল ঢাকায় ফিরতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারা বিকল্প পথ হিসেবে কাজীরহাট-আরিচা নৌরুট ব্যবহার করছেন। বৃহস্পতিবার কাজীরহাটে বেশ ক’জন যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তাকবীর নামের এক যাত্রী বলছিলেন- তিনি গাজীপুরে চাকরি করেন।

সকাল থেকে বাসের অপক্ষোয় থাকেন। শেষে দুপুরের দিকে তিনি কাজীরহাট ফেরিঘাটে আসেন। তবে একটু দেরি হয়ে যাওয়ায় তিনি ফেরিটি ধরতে পারেননি বলে জানান। আবু সাঈদ নামের এক যাত্রী জানান, তিনি পাবনা থেকে মানিকগঞ্জ যাবেন। তিনি বাস না পেয়ে ফেরিতে আরিচা যেতে চান। কিন্তু তিনি ফেরিতে উঠতে পারেননি বলে জানান।

কাজীরহাট ফেরিঘাটের টিকিট বিক্রেতা পল্লেক হোসেন জানান, সড়কপথ বন্ধ থাকায় নৌপথে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এজন্য টিকিট নিতে যাত্রীদের ভিড় এবং হুড়াহুড়ি হচ্ছে। তবে ঘাটে কর্তব্যরত আমিনপুর থানার পুলিশ সদস্যরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি তারা দেখছেন। আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জানান,

ফেরিতে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া মাইক্রোবাস বা প্রাইভেটকার চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে এর বাইরে অনেক লোকজনকেও মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার নিয়ে ফেরি পার হতে দেখা গেছে। বিআইডব্লিউটিসির ম্যানেজার (কাজীরহাট) মাহবুব হোসেন জানান, কাজীরহাট-আরিচা নৌরুটে তিনটি ফেরি চলাচল করছে। একটি ফেরির সংস্কার কাজের জন্য চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তিনি জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক পণ্যবাহী ট্রাক ও রোগীবাহী গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো বাহন ফেরিতে নেয়া হচ্ছে না। এদিকে ফেরিতে ওঠা যাত্রীরা ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এভাবে চলতে থাকলে করোনা সংক্রমণ আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশঙ্কা করছে- এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে চলে যেতে পারে।

পাবনার ডেপুটি সিভিল সার্জন কেএম আবু জাফর জানান, পাবনাতেও করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। সবাই সচেতন না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পাবনায় হু হু করে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। গত ৭ দিনে জেলায় সংক্রমণের হার ৩ থেকে ১৩ ভাগে উন্নীত হয়। এ সময়ে ৪ জনের মৃত্যু এবং অন্তত এক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন।