বিতর্কিত মামুনুল হককে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ

বিতর্কিত হেফাজত নেতা মামুনুল হককে মিথ্যাভাবে জড়িয়ে মামলা করেছেন সাদপন্থী জনাব আব্দুর রাজ্জাক। উক্ত মাদরাসার সঙ্গে মামুনুল হকের বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক ছিল না, বর্তমানেও নাই। মামুনুল হক ২৫ বছরে কখনো উক্ত মাদরাসায় শিক্ষকতা করেননি, পড়ালেখা করেননি, কোনো কমিটিতেও ছিলেন না। এমনকি একদিনের জন্যও মাদরাসার ভেতরে প্রবেশ করেননি।

সাম্প্রতিক এক মামলা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসংক্রান্ত প্রতিবেদনের পর এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাজধানীর মাদরাসা মুঈনুল ইসলামের সভাপতি শাহরিয়ার মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘মামলার আরজি না পড়ে উদ্দ্যেশ্যমূলকভাবে তা সংবাদ (হেডলাইন) বানানো হয়েছে। বাদীর দায়ের করা মামলার আরজিতে লেখা আছে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করিতেছে। অথচ সংবাদে এসেছে আত্মসাৎ করেছে’।

প্রতিবাদপত্রে তিনি লেখেন, ‘মাদরাসাটি সম্পূর্ণ আরাজনৈতিক এবং দাওয়াত ও তাবলিগের মুরুব্বিদের আদর্শ ও পরামর্শে পরিচালিত। মাদরাসার জন্য দান করা ১৯৯৭ সালের প্রথম জমির দলিলে যা সুস্পষ্ট লেখা আছে। মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আতাউর রহমানের ইন্তেকালের পর (১১ মে ২০২০) দলিল অনুযায়ী ওলামাদের দ্বারা শুরা কমিটি গঠন করে এখন পর্যন্ত সুন্দরভাবে মাদরাসাটি পরিচালিত হচ্ছে’।

তিনি বলেন, মাদরাসার ২৫ বছরের সুনামকে নষ্ট করে বিতর্কিত মামুনুল হককে মাদরাসা মুঈনুল ইসলামের সাথে বার বার জড়ানোর চেষ্টা করে মাদরাসাকে সাদপন্থী মার্কাজ বানানোর পরিকল্পনায় সাদপন্থীগণ অপচেষ্টায় লিপ্ত। প্রতিবাদপত্রে লোখা হয়, ‘মাদরাসার মসজিদ ২ মাস ৯ দিন বন্ধ থাকার পর মসজিদ খোলার দাবিতে ৯ অক্টোবর নর্দ্দা মেইন রোডে তৌহিদী জনতার প্রতিবাদ সমাবেশে হাজির হন

এলাকার মুসল্লিসহ হাজার হাজার মানুষ। শত আলেমের বক্তব্য ও দাবি শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করে কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন (বাবুল) মসজিদ খোলার ঘোষণা দেন। ওই সময় ওই খানে হাজির হন মামুনুল। অবশ্য তাকে উক্ত সভায় দাওয়াতও দেওয়া হয় নাই। ভক্তদের অনুরোধে ২ মিনিটের বক্তব্য দেন মামুনুল। কিন্তু তাকে মাদরাসায় নেওয়া হয় নাই। আর উক্ত সভা ছিল

এলাকার মুসল্লি, ঢাকা শহরের আলেম ওলামা, ছাত্র ও তবলিগের সাথী ভাইদের সমন্বয়ে মুসলমানি এক ধর্মীয় চেতনার বহিঃপ্রকাশ। কারণ করোনার মারাত্মক পরিস্থিতিতেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের কোনো স্থানে ১ দিনের জন্যও কোনো মসজিদ বন্ধ করেননি। এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আফতাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে তৌহিদী জনতার উপস্থিতিতে আল্লাহর ঘর মসজিদকে খুলে দেওয়ার দাবির

সমাবেশকে হেফাজতের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডর সাথে জড়িত করার ঘৃণ্য চেষ্টা করছে বাংলাদেশের সাদপন্থীরা।’ আল মাদরাসাতু মুঈনুল ইসলামের প্রিন্সিপাল মুফতি আতাউল্লাহ ও সভাপতি শাহরিয়ার মাহুমুদ সাক্ষরিত প্রতিবাদপত্রে আরো বলা হয়, ৯ অক্টোবরের পরে মাদরাসা মুঈনুল ইসলাম নিয়ে বিভিন্ন সংবাদে কোথাও হেফাজত বা মামুনুলের কোনো কথার উল্লেখ ছিল না।

সাদপন্থী আব্দুর রাজ্জাকের দায়ের করা কোনো মামলায়ও মার্চ ২০২১ পর্যন্ত হেফাজত বা মামুনুলের অস্তিত্ব নাই। অথচ ২৮ শে মার্চ ২০২১-এর পরে উদ্যেশ্যমূলকভাবে সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য মাদরাসা মুঈনুল ইসলামের সাথে বিতর্কিত মামুনুল হককে জড়ানো হয়েছে। এতে দাওয়াত ও তবলীগের আদর্শে পরিচালিত মাদরাসাটির মর্যদা ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রতিবাদপত্রে বলা হয়, ‘দেওয়ানী ১১৮/২০২১ নং দায়ের করা মোকদ্দমায় সাদপন্থী আব্দুর রাজ্জাক স্বীকার করেছেন যে, তারা বর্তমানে মাদরাসার দখলে নাই এবং তারা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে দখল পুনরুদ্ধার চেয়েছেন। সুতারং মিথ্যা ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে হাঙ্গামা সৃষ্টি না করে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করাই হবে তাদের জন্য বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।’ বিজ্ঞপ্তি