কঠোর লকডাউন, বাগানের পচা আম দেখে জ্ঞান হারালেন চাষি

ঝিনাইদহে লকডাউনের কারণে যানবাহনের অভাবে বাগানেই আম পচে যাচ্ছে। করোনাকালীন সময় পুলিশ ও প্রশাসনের বাধায় আম বাজারে তুলতে পারছেন না চাষিরা। এ কারণে ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেয়ায় চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের বুলবুল আহম্মেদ বাপ্পি ঋণ নিয়ে ৬ বিঘা জমিতে আম্রপালি জাতের আম চাষ করেছিলেন। ব্যাংকসহ বিভিন্ন এনজিওতে তার দেনা ৬ লাখ টাকা। কিন্তু তিনি এখন ভালো দামে আম বিক্রি করতে পারছেন না। দাম না পাওয়ায় গাছেই তার আম পেকে নষ্ট হচ্ছে।

এদিকে একই গ্রামের সন্টু জোয়ারদার বাগানে আমের ব্যাপক ক্ষতি দেখে শনিবার (২৬ জুন) দুপুরে বাগানেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সন্টু জোয়ারদার বলেন, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, খুলনা, ফরিদপুর ও পিরোজপুর জেলার ব্যাপারীদের পদভারে এ সময় আম বাগান মুখরিত থাকতো। এখন আর কেউ আম কিনতে আসছেন না। কিছু ব্যাপারী আসলেও তারা ৬৮০ টাকা মণ আম কিনতে চাচ্ছেন।

এ দামে আম বিক্রি করলে তাদের লোকসান হবে। বুলবুল আহম্মেদ বাপ্পি জানান, আমের ভরা মৌসুম চলছে। কিন্তু বাগানে কোনো ব্যাপারী আসছেন না। কয়েকজন ব্যাপারী বাগান কিনে বায়না করে গেলেও তাদের অপেক্ষায় থেকে থেকে বাগানের আম গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. আজগর আলী বলেন, আম চাষিদের পরিবহন সহজতর করার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু করোনার ভয়াল বিস্তার ও নানা বিধিনিষেধের কারণে চাষিরা আম বিক্রি করতে পারছেন না।

উল্লেখ্য, ঝিনাইদহ কৃষি অফিসে তথ্যমতে এ বছর জেলায় দুই হাজার ২১১ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৫৮০ হেক্টর, কালীগঞ্জে ৩৭০ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ৭১০ হেক্টর, মহেশপুরে ৫০০ হেক্টর, শৈলকূপা ২৫ হেক্টর ও হরিণাকুন্ডুতে ২৬ হেক্টর। এসব বাগানে এ বছর ৩৩ হাজার ৫১১ টন আম উৎপাদন হয়েছে।