আবাহনী অটো জেতেনি,সংগ্রাম করতে হয়েছে: পাপন

ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা। ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরোনো উক্তি হচ্ছে। ক্রিকেট শুধু ভদ্রলোকের খেলা নয়, ক্রিকেট বেশ জটিল খেলাও। কত শত নিয়মের বেড়াজালে আটকে থেকে এই খেলাটি যে খেলতে হয়, তার কোনো ইয়ত্তা নেই।

নতুন খবর হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর নামে অনুষ্ঠিত ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের পর্দা নেমেছে আজ (শনিবার)। প্রথমবারের মতো সুপার লিগের ম্যাচগুলো টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবি। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে হারিয়ে চলতি আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টানা তিনটি শিরোপা জিতলো তারা। জাতীয় দলের একঝাঁক ক্রিকেটার নিয়ে দল গড়লেও শিরোপা জেতার পথটা তাদের সহজ ছিল না বলে মনে করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। এবারের ঢাকা লিগের সফল আয়োজনের তিনটি অর্জন খুঁজে পেয়েছেন পাপন।

সেই তিন অর্জনের তৃতীয় নম্বরে তিনি তুলে এনেছেন লিগ শিরোপা লড়াইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি। যেখানে জানিয়েছেন, জাতীয় দলের সব খেলোয়াড় নিয়ে গড়া আবাহনীকেও সংগ্রাম করতে হয়েছে অন্য দলগুলোর সঙ্গে। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাপকাঠিতে যা ঢাকা লিগকে করেছে আরও আকর্ষণীয়।

প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি তুলে ধরে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘এটা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর নামে করা হয়েছে, কাজেই বাড়তি চ্যালেঞ্জ ও সৌন্দর্য ছিল। খেলাগুলোও দেখুন, ছোট-বড় বলে কোনও কথা নেই। কে জিতবে, এটা বোঝার কোনও পথ ছিল না। কাগজে-কলমে আবাহনী প্রায় জাতীয় দল ছিল। তারপরও আবাহনীকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে।

এমন না যে অটো জিতে গেছে। আমরা মনে করলেও আসলে কোনও দল ছোট না। খেলাঘরের কাছেও আবাহনী হেরেছে।’ আরও অনেক দল ও খেলোয়াড় মুগ্ধ করেছে পাপনকে, ‘প্রাইম ব্যাংক, প্রাইম দোলেশ্বর খুব ভালো দল। সবচেয়ে ভালো বোলিং ছিল প্রাইম ব্যাংকের। মোস্তাফিজ, শরিফুল, রুবেল এ ধরনের বোলাররা ছিল।

কয়েকটা দল সংগ্রাম করেছে, যেহেতু জাতীয় দলের কিছু তারকা খেলোয়াড় খেলেনি। এজন্য অনেক দল একটু দুর্বল হয়ে গেছে। ওরা খেললে কী হতো, চিন্তা করে দেখুন। অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা হয়েছে। এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য।’ একই সঙ্গে আয়োজক ও প্রতিযোগিতাটির সঙ্গে জড়িত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিসিবি প্রধান,

‘সিসিডিএমকে প্রথমে ধন্যবাদ জানাতে চাই, অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। সঙ্গে মাঠকর্মীরা, এই সময়টাতে ওরা যে কষ্টটা করেছে। এককথায় অবিশ্বাস্য। খেলোয়াড়দের কথাও বলতে হবে, কোভিড প্রটোকল মেনে খেলেছে। আজ (শনিবার) খেলা শেষ হচ্ছে, পরশুই (সোমবার) আবার জিম্বাবুয়ে চলে যাচ্ছে।

জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর এটা বাড়তি চাপ। আমাদের কোভিড সম্পর্কিত কোনও সমস্যা হয়নি, সেজন্য আমি মনে করি, এটা বিরাট অর্জন। ইংল্যান্ডের মত দেশেও খেলোয়াড়রা পজিটিভ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের এখানে কেউ পজিটিভ হয়নি।’