ঘরের জানালা দিয়ে আল-আকসা মসজিদ দেখার স্বর্গীয় অনুভূতি

আল-আকসা মসজিদ জেরুসালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ। এটির সাথে একই প্রাঙ্গণে কুব্বাত আস সাখরা, কুব্বাত আস সিলসিলা ও কুব্বাত আন নবী নামক স্থাপনাগুলো অবস্থিত। স্থাপনাগুলো সহ এই পুরো স্থানটিকে হারাম আল শরিফ বলা হয়। এছাড়াও স্থানটি “টেম্পল মাউন্ট” বলে পরিচত এবং ইহুদি ধর্মে পবিত্র বলে বিবেচিত হয়।

মসজিদুল আকসা চত্বরের পাশে একটি বাড়িতে থাকেন উম্মে মুহাম্মদ। তাঁর ঘর থেকে কুব্বাতুস সাখরা বা ডোম অব দ্য রক দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই ঘরের জানালা দিয়ে কুব্বাতুস সাখরার সুন্দর দৃশ্যের ছবি ব্যাপক সাড়া জাগায়। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তাঁর বাড়িটি ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যে বিক্রির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

বরং বিশ্বের সব অর্থ দেওয়া হলেও বাড়িটি বিক্রি করবেন না বলে জানান তিনি। এক বিবৃতিতে উম্মে মুহাম্মদ জানান, মসজিদুল আকসায় চলমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব কিছু শেয়ার করেন। বাধাহীন মসজিদুল আকসা দেখার অনুভূতি মুসলিম উম্মাহর কাছে গর্ব ও সম্মানের। তা ছাড়া অনেকের কাছে তা অকল্পনীয় বটে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক সাক্ষাৎকারে উম্মে মুহাম্মদ বলেন, তাঁর ঘরের রান্নাঘরটি তাঁর কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান স্থান। শত শত ঘর ও প্রাসাদ এই ছোট্ট কিচেনের সমমান হতে পারে না। এই ঘরের ভেতর পুরো দিন কাটান। এখানে অবস্থান করা সাধারণ কোনো ঘরে অবস্থানের মতো নয়,

বরং এখানে অবস্থানকে তিনি আল-আকসায় ‘মুরাবিত আমিন’ তথা আস্থাবান প্রহরীর মতো মনে করেন। উম্মে মুহাম্মদ কুব্বাতুস সাখরার পাশের এই বাড়িতে ৩৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। পৈতৃক সূত্রে তিনি এই বাড়ি লাভ করেন। বাড়িতে অবস্থান করে মসজিদুল আকসার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি।

এর মাধ্যমে ঈমানের সর্বনিম্ন স্তরের দায়িত্ব পালন করছেন বলে তিনি দাবি করেন। অবশ্য উম্মে মুহাম্মদকে এই বাড়িতে থাকতে গিয়ে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর নানা রকম অন্যায় আচরণ ও বাধা-নিষেধের মুখোমুখি হতে হয়। শুধু তিনি নন, বরং উম্মে মুহাম্মদের পুরো পরিবারের ওপর দখলদার বাহিনীর সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকে।