দুই পা হারানো ছেলেটিও হাতে ভর করে ছুটছে মা-বাবার কাছে

করোনাভাইরাস এখন চীন ছাড়াও বিশ্বের ৭৬টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কিছুটা হলেও সবাই এখন সচেতন।এমতাবস্তায় হচ্ছে লকডাউন।নতুন খবর হচ্ছে, দুই পা নেই। ১১ বছর আগে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পা দুটি হারান রনি। হাতে ভর করেই চলতে হয়। কোমর পর্যন্ত টায়ার দিয়ে পেঁচানো।

ফেরির প্রচণ্ড ভীড়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাতে ভর করেই পার হয়েছেন পদ্মা নদী। হাতে ভর করে রওনা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ থেকে মা-বাবার আবাসস্থল গ্রামের বাড়ি বরিশাল। এভাবে শুধু রনিই নয় শিশু বৃদ্ধসহ লাখো যাত্রীর ঢল এখন শিমুলিয়া-বাংলাবাজার রুটে। বিশেষ করে শিমুলিয়া ঘাটে অতিরিক্ত চাপ। যাত্রী চাপে জরুরি যানবাহন পারাপারও ব্যাহত হচ্ছে।

দূর পাল্লার বাস বন্ধ থাকায় মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন হালকা যানবাহনে যাত্রীরা ৩-৪ গুণ ভাড়া গুণে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।জানা যায়, সর্বাত্মক লকডাউনের ঘোষণায় শিমুলীয়া-বাংলাবাজার নৌরুট হয়ে দক্ষিণাঞ্চলমুখী যাত্রীদের ঢল নেমেছে। রবিবার সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ফিরতে শুরু করেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌরুটে যাত্রী চাপ আরো বৃদ্ধি পায়। শিমুলীয়া থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরিই ছিল যাত্রীতে কানায় কানায় পূর্ণ। কোনো কোনো ফেরিতে যাত্রীদের চাপে অল্প কয়েকটি যানবাহন পারাপার হতে দেখা গেছে। এদিন যাত্রী চাপ সামাল দিতে শিমুলীয়া থেকে আসা বেশ কয়েকটি ফেরি বাংলাবাজার ঘাটে যাত্রী ও যানবাহন আনলোড করে

বাংলাবাজার ঘাট থেকে অল্প যাত্রী নিয়েই আবার শিমুলীয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। যাত্রীদের চাপে এদিন জরুরি ও পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারেও বিলম্ব হয়। লঞ্চ বন্ধ থাকায় ফেরিতেই যাত্রীরা গাদাগাদি করে পদ্মা পাড়ি দেন। ফলে ঘাট এলাকা বা ফেরিতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি কোথাও। অনেককেই দেখা গেছে মাস্কবিহীন।

দূরপাল্লা বা অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীবাহী যানবাহন বন্ধ থাকলেও বরিশাল, খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল, থ্রিহুইলার, ইজিবাইকসহ হালকা যানবাহনে ৩-৪ গুণ ভাড়া গুণে যাত্রীরা বাংলাবাজার ঘাটে পৌঁছান। অপরদিকে, একই চিত্র ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রেও।

ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রীরা হালকা যানবাহনে ৩-৪ গুণ ভাড়া দিয়ে ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিয়েও আবারও ভোগান্তিতেও পড়েন। বাংলাবাজার থেকে ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেলে বরিশালে ৫ শ থেকে ৬ শ টাকা, গোপালগঞ্জ ৫শ টাকা, খুলনা ৭ শ টাকা, মাদারীপুর ২শ টাকা, বাগেরহাট ৬ শ ৫০ টাকাসহ প্রতিটি যানবাহনেই কয়েকগুণ ভাড়া আদায় করা হয় যাত্রীদের কাছ থেকে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে আটকালেও বিভিন্ন অযুহাতে যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এদিন ১৬টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও জরুরি গাড়ি পারাপার করা হয়। রনি বলেন, ‘১১ বছর আগে দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছি। সামনে ঈদ। যদি কঠোর লকডাউন দিয়ে দেয়। তাই আগেভাগেই বরিশাল যাচ্ছি মা বাবার কাছে। পা নেই, কি আর করবো হাত দিয়েই চলতে শিখেছি।’

ঢাকার কাওরান বাজারের ফল ব্যবসায়ী মোবারক আলী বলেন, ‘কঠোর লকডাউনের সময়তো ব্যবসা বন্ধ থাকবে। ব্যবসা বন্ধ থাকলে ঢাকায় বাসা ভাড়া দিবো কিভাবে, আর খাবোই বা কি? তাই স্ত্রী, ছেলে মেয়েসহ গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী ফিরে যাচ্ছি।’