করোনাকালে ঢেঁকিশাক বিক্রি করে বেঁচে আছেন বৃদ্ধ তছলিম

দিন যতই যাচ্ছে করোনা ততই বেড়ে চলছে। তবে দুঃখের বিষয় হলেও সত্য যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে না একদল মানুষ। এভাবে চলতে থাকলে করোনা অনেক ভয়াবহ রুপ ধারণ করবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এমতাবস্তায় আসছে লকডাউন।

নতুন খবর হচ্ছে, করোনার এই সঙ্কটকালে হাতে কোনো কাজকর্ম নেই। তাই রাস্তার ধারে ঢেঁকিশাক সংগ্রহ করে তা বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ বৃদ্ধ তছলিম উদ্দিন (৭০)। তার স্ত্রী আলেয়া বেগমও (৫৫) শাক বিক্রি করেন।

বৃদ্ধ এই দম্পতির বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায়। থাকেন বড়খাতার পূর্ব সাড়ডুবি মোজা মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে। তাদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলে ঢাকায় থাকেন। আর এক ছেলে স্ত্রীসহ বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। ছোটছেলে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খোঁজ নিলেও বাকি দুই ছেলে তাদের খোঁজ রাখেন না।

সম্প্রতি দেখা যায়, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সড়কের পাশে ঢেঁকিশাক তুলছেন বৃদ্ধ তছলিম উদ্দিন। জানালেন, এগুলো বিক্রি করে ১০০-১৫০ টাকা আয় করেন। সেই টাকায় চাল, ডাল কিনে কোনো রকমে বেঁচে আছেন তারা।

বৃদ্ধ তছলিম উদ্দিন বলেন, ‘জীবনটা অনেক কঠিন বাহে। কে কার খোঁজ রাখে? সবাই সবার মতো করে চলে। তাই দিশকুল না পেয়ে সপ্তাহে তিন দিন রাস্তার ঢেঁকিশাক তুলে বাজারে বিক্রি চাল-ডাল কিনি খাচ্ছি।