জানাজার পর জানা গেল ইমাম

মাগুরার মহম্মদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ইমামের জানাজার পর জানা গেল তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। আক্রান্তের বিষয়টি পরিবারের লোকজন প্রথমে গোপন রাখলেও জানাজার পর তা স্বীকার করেন।
এ নিয়ে এখন আতঙ্কগ্রস্ত জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা। মৃত ব্যক্তির নাম হাসান বিন সাঈদ মুন্সি (৫৫)। তিনি উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের উত্তর মৌশা গ্রামের মৃত সাঈদ মুন্সির ছেলে।

হাসানের স্ত্রী আতিকা আহসান জানান, তার স্বামী শুক্রবার দুপুরে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালে কর্তব্যরতরা তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন। এতে তার পজিটিভ রিপোর্ট আসে।

মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কাজী আবু আহসান জানান, হাসানকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তার শরীরে করোনার উপসর্গগুলো বিদ্যমান ছিল। তার রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ ছিল ৫৩ পার্সেন্ট। অবস্থা গুরুতর দেখে আমরা তাকে ফরিদপুরে পাঠিয়ে দেই।

হাসানের স্বজনরা জানান, রোববার ভোর সোয়া ৫টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসান মুন্সি মারা যান। ধোয়াইল গ্রামের ইউসুফ সর্দারসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের উত্তর মৌশা হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও মসজিদ সংলগ্ন মাঠে করোনা প্রটোকল না মেনেই হাসানের জানাজা সম্পন্ন করা হয় এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, হাসানের করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি জানাজার আগে গোপন রাখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্নজনের কাছে শুনেছি হাসানের করোনা ছিল। আমরা এখন আতঙ্কে আছি। তিনি ধোয়াইল চর উত্তরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল জানান, লাশ আনা-নেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।