করোনার বালামুসিবত দূর করতে কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জুনায়েদ বাবুনগরীর

হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন মিথ্যা মামলায় জেলে আটক রয়েছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্ষোভের বিস্ফোরণ হলে এর দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে। গতকাল রবিবার (২৭ জুন) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদরিসের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলেন সংগঠনটির আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী।

এ সময় জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘বিনা দোষে আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম জেলখানায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেকেই বয়োবৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে অসুস্থ। জেলেখানার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে জুনায়েদ আল হাবীবসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পেয়েছি ৷ মানবিক বিবেচনায় নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে কওমি মাদরাসা খুলে দিন।’

তিনি বলেন, ‘হেফাজতের ২০১৩ সালের আন্দোলনে গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডের পর থেকেই আমি অসুস্থ। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগসহ ডায়াবেটিস-প্রেসারে ভুগছি। তিনবেলায় দৈনিক আমার অর্ধশত ট্যাবলেট খেতে হয় এবং ইনসুলিন নিতে হয়।

খাদেমদের সহযোগিতা ছাড়া একাকী চলাফেরা করতে পারি না। আমার ব্যক্তিগত খাদেম এনামুল হাসান ফারুকীকেও সম্পূর্ণ বিনা দোষে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে জেলে আটক থাকায় ওষুধ সেবনসহ নানা কাজে আমি কষ্ট পাচ্ছি। আমার সেবক এনামুল হাসানেরও মুক্তি চাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলখানায় আটক থাকা ওলামায়ে কেরাম কোন অন্যায় অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তারা মাদরাসায় কুরআন-হাদিসের পাঠদানে নিমগ্ন থাকতেন। ওয়াজ-নসিহত করতেন। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতেন। আজ তাদের দোষী সাজিয়ে জেলখানায় বন্দি রাখা হয়েছে। এটা বড়ই দুঃখজনক। শীর্ষ ওলামায়ে কেরামকে এভাবে জেলখানায় আবদ্ধ রেখে কষ্ট দিলে তাদের বদদোয়ায় আল্লাহর গজব আসতে পারে’

তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মিথ্যা মামলায় হেফাজতের নেতাকর্মীরা জেলে আটক থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ক্ষোভের বিস্ফোরণ হলে এর দায় সরকারের ওপরই বর্তাবে। এ সময় প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ‘বালামুসিবত’ দূর করতে কওমি মাদরাসাগুলো খুলে দেওয়ারও দাবি করেছেন জুনায়েদ বাবুনগরী।