দশদিন ধরে মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেন না অসহায় বাবা (ভিডিও)

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর থেকে গত ২৩ জুন হারিয়ে যায় ১৫ বছরের কিশোরী জান্নাতি। দশ দিনেও মেয়ের সন্ধ্যান না পেয়ে পাগলের মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন মেয়েটির বাবা আব্দুল জলিল। গত বৃহস্পতিবার মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় পেয়েই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন অসহায় বাবা।

আব্দুল জলিল যুগান্তরকে বলেন, ২৩ জুন বুধবার বাসা থেকে শ্যাম্পু কেনার জন্য বের হয়ে যায় আমার কলিজার টুকরা জান্নাতি, এরপর আর ফেরত আসেনি। এই ঘটনায় সেদিনই কাফরুল থানায় একটা সাধারণ ডায়েরি (ডায়েরি নং ১৫১২) করেছি, র‌্যাবের কাছেও গিয়েছি। কিন্তু আমার সোনা-মানিককে এখনো পাইনি।

জানা গেছে, আব্দুল জলিল একজন প্রাইভেটকার চালক এবং তার স্ত্রী অন্যের বাসায় কাজ করেন। তাদের সংসারে ২ ছেলে ও একমাত্র মেয়ে জান্নাতি। আব্দুল জলিলের গ্রামের বাড়ি উত্তরের জনপদ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায়। মিরপুরের সেনাপাড়া-পর্বতা এলাকার সাত নম্বর রোডে ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন তিনি।

অসহায় বাবা আব্দুল জলিল বলেন, অনেক কষ্টে ঢাকায় থেকে কোনোমতে জীবনযাপন করি। অভাবের সংসারের মধ্যেই মেয়ে জান্নাতি থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। তার বয়স ১৫ হলেও রোগের কারণে দৈহিক গড়নে বেশ ছোট। কিছুদিন পরপর তাকে রক্ত দেয়া লাগে। চলতি বছর তার ক্লাস সেভেনে ওঠার কথা। রাস্তার একটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে কেঁদে জলিল বলেন,

ঘটনার দিন আমি কাজে ছিলাম, আমার স্ত্রী রত্নাও অন্যের বাসায় কাজে গিয়েছিল। আমার ছেলে দুটি বাসায় তাদের রুমে ঘুমিয়ে ছিল। এমন সময় সম্ভবত গোসলের জন্য শ্যাম্পু আনতে বাসা থেকে বের হয় আমার মেয়ে। এরপর দশদিন চলে গেল, মেয়েটিকে আর পেলাম না। পাশের বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় জান্নাতি মিরপুর বিআরটিএ-এর দিকে হেঁটে যাচ্ছে।

মেয়ে হারানোর পর থেকে বাড়িতে চুলা জ্বলছে না উল্লেখ করে অসহায় বাবা বলেন, মেয়েটা আমার অসুস্থ। একমাত্র মেয়ে হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই সে আমাদের আদরের ধন। তাকে রেখে আমাদের মুখে খাবার উঠে কীভাবে। মেয়ে আমার কোথায় আছে, কীভাবে আছে, কে জানে- বলেই কাঁদতে শুরু করেন।

তিনি বলেন, আমার বড় ছেলেকে বিয়ে দিছি। ঈদের আগে বউকে ঘরে তোলার কথা। বড় ভাইয়ের বিয়েকে ঘিরে আমার জান্নাতের কত পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তাকেই পাওয়া যাচ্ছে না। আমার ছেলে দুটিও বোনকে হারিয়ে ভালো নেই। পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাব তার মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

আব্দুল জলিলের দায়ের করা জিডির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাফরুল থানার এসআই পরিমল চন্দ্র সরকারের নাম্বারে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে থানার ডিউটি অফিসার জানান, পরিমল সাহেব ছুটিতে আছেন। অল্পকিছু দিনের মধ্যেই কাজে যোগ দিবেন তিনি।