জুমার নামাজে মুসল্লিদের মুখে ছিল না মাস্ক

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এই বিশেষ ধরনের ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে দেশে-বিদেশে উদ্বেগ বাড়ছে। কিন্তু নিজেকে আর নিজের পরিবার, স্বজনদের রক্ষা করতে কতটুকু সচেতন আমরা? প্রশ্ন থেকেই যায়।

নতুন খবর হচ্ছে, ময়মনসিংহ মহানগরীর অধিকাংশ মসজিদে জুমার নামাজে আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। বেশিরভাগ মসজিদে সামাজিক দূরত্ব মানা হয়নি। ছিল না স্যানিটাইজারের কোনও ব্যবস্থা। অধিকাংশ মুসল্লির মুখে মাস্কও ছিল না।

মহানগরীর চরপাড়া কফি কাপ মসজিদে বেলাল (রা.) এর খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. আনোয়ার হোসাইন জানান, প্রতিটি জুমার নামাজের বয়ানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে আসার জন্য মুসল্লিদের আহ্বান করা হয়। কিন্তু মুসল্লিরা তা পালন করছেন না। এ বিষয়ে আমরাতো মুসল্লিদের ওপর জোর-জবরদস্তি করতে পারি না।

মময়মনসিংহ বড় মসজিদের প্রধান খতিব মাওলানা মো. আব্দুল হক বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে আসা উচিত। এ বিষয়ে তিনি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সহায়তা চান। জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক বলেন,

স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য সরকারের নির্দেশনা মসজিদ কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে মুসল্লিরা যাবেন। তবে কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি দেখবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, বরিশাল নগরী থেকে শুরু করে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের মসজিদগুলোতে জুমার নামাজের আগে করোনা মহামারি বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) ও জেলা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন

বিএমপি কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান ও পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। তারা জানান, সদর ‍উপজেলার সাইবের হাট, টুঙ্গিবাড়িয়া, চাঁদপুরাসহ ১০টি উপজেলার ৮৭টি ইউনিয়নের এক হাজার মসজিদে বিএমপি ও জেলা পুলিশের প্রতিনিধিরা জুমার নামাজে অংশ নিয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন।

পুলিশ প্রতিনিধিরা মহামারি সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক পরার ওপর জোর দেন। সদরের চাঁদপুরা তালুকদার বাড়ি মসজিদের ইমাম মোখলেছুর রহমান বাবু বলেন, জুমার নামাজের আগেই চার জন পুলিশ সদস্য মসজিদে আসেন।

খুতবা শেষে তারা অনুমতি নিয়ে মুসুল্লিদের লকডাউন ও করোনা মহামারি নিয়ে সচেতন করেন। পরে তারা জুমার নামাজে অংশ নেন।