যেভাবে রিনাকে ছেড়ে কিরণের প্রেমে পড়েছিলেন আমির

বলিউড অভিনেতা আমির খান ও তার স্ত্রী কিরণ রাও বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। ১৫ বছরের নির্ভেজাল দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন তারা। এ দম্পতি এমন সিদ্ধান্ত নেবেন তা কল্পনায় ছিল না সিনেপ্রেমীদের। বলিউড পাড়াও এমন খবরে বিস্মিত।

কারণ কিরণ রাওয়ের সঙ্গে পারফেক্ট জুটি গড়েছেন মি. পারফেক্টশনিস্ট। এমনটাই চাউর ছিল ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। কিরণ নাকি ঘর এবং বাইরে দুটোই দারুণভাবে পরিচালনা করেন। আর সবাইকে অবাক করে নিজেদের বিচ্ছেদ ঘোষণা করলেন আমির-কিরণ।

কিরণ আমিরের দ্বিতীয় স্ত্রী। আমিরের প্রথম স্ত্রীর নাম রিনা দত্ত। তবে কীভাবে রিনাকে ছেড়ে কিরণের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন আমির? সেই ঘটনা জানতে আগ্রহী সিনেপ্রেমীরা। আনন্দবাজার পত্রিকাসহ ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

প্রতিবেদনগুলো বলছে, আমিরের জীবনে কিরণের প্রবেশও ছিল তাদের এই বিচ্ছেদ ঘোষণার মতোই বিস্ময়কর। রিনা দত্তের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে একা একাই সময় পার করছিলেন আমির। আচমকাই কিরণ রাওয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেন এ বলিউড অভিনেতা।

কিরণ রাও একজন প্রযোজক, পরিচালক এবং স্ক্রিপ্ট রাইটার । এক সময় আমিরের প্রথম স্ত্রী রিনার সহকারী ছিলেন তিনি। এই কাজের মধ্যেই ধীরে ধীরে আমিরের পছন্দের তালিকায় স্ত্রী রিনাকেও ছাপিয়ে যান কিরণ।
মূলত বলিউডে একজন সফল পরিচালক মুম্বাইয়ে পা রাখেন কিরণ।

মু্ম্বই এসে প্রথমেই কিরণ নামি-দামি পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, একটু সুযোগ চান। কিন্তু তাকে কেউই পাত্তা দেননি সে সময়। বড় কাজে সুযোগ না পেয়ে টুকটাক সহ-পরিচালকের কাজ করে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন কিরণ।

এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর হঠাৎ ভাগ্য খুলে কিরণের। এক জ্যেষ্ঠ পরিচালকের মাধ্যমে কিরণ খবর পান, প্রখ্যাত পরিচালক আশুতোষ গোয়ারিকর তার নতুন ছবি নির্মাণের জন্য একজন সহ-পরিচালক খুঁজছেন। কিরণ সে সুযোগ হাতছাড়া করেননি । আশুতোষের সঙ্গে দেখা করেন, ইন্টারভিউ দেন। টিকেও জান। তাকে নতুন ছবির জন্য কাজ দেন আশুতোষ।

আর ওই ছবিই হচ্ছে আমির খান অভিনীত ব্লকবাস্টার সুপার হিট ‘লাগান’। আর সেই ছবি সূত্রেই কিরণের সঙ্গে আমিরের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। মূলত প্রথম সুযোগ পেয়েই দুর্দান্ত পারফর্ম করেন কিরণ। ছবির সব চরিত্রের মেকআপ, পোশাক, কার কবে শ্যুটিং রয়েছে, কাকে কোন সময় শুটিং স্পটে আসতে হবে সব বিষয়ের দেখভাল করতেন কিরণ।

কিরণের এই দায়িত্ববোধ ও দক্ষতা দেখে ভালো লেগে যায় আমিরের। কিরণকে পছন্দ হয় আমিরের তত্কালীন স্ত্রী রিনা ও পরিচালক আশুতোষেরও। কিরণকে কাজে রেখে দেন আশুতোষ। পাশাপাশি আমিরের স্ত্রীর রিনারও কাজ দেখাশোনার দায়িত্ব পান কিরণ।

‘লাগানের’ব্যবসা সফতায় নিজের পরবর্তী ছবির জন্য আমিরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন আশুতোষ। আর ওই ছবির নির্মাণের সময় কিরণের কাছাকাছি আসেন আমির। ওই সময় রিনার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন নিয়ে ঝামেলা চলছিল আমিরের। দুই সন্তানকে খুব মিস করতেন। তাদের কাছে না পেয়ে মানসিকভাবে মনোবল হারিয়ে ফেলেছিলেন।

এ সময় আমির পাশে পান কিরণকে। কাজের বাইরে কিরণের সঙ্গে ফোনে দুঃখ আদানপ্রদান করা হতো আমিরের। এক সময় একে অপরের প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করেন। ৩ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর ২০০৫ সালে কিরণকে বিয়ে করেন আমির।

২০১১ সালে সারোগেসির মাধ্যমে ছেলের জন্ম দেন কিরণ। আমির তার ছেলের নাম রেখেছেন আজাদ রাও খান। আমিরের প্রথম স্ত্রীর ঘরে রয়েছে আরো দুই সন্তান। তাদের নাম ইরা ও জুনাইদ।